নামাজের সময় কেন চলছে হনুমান চল্লিশা, ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মা’র’ধ’র বিশেষ সম্প্রদায়ের যুবকদের

আমরা একবৃন্তে দুটি কুসুম, হিন্দু-মুসলমান কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী লেখা‌ আজও চিরস্মরণীয়। বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় একে অপরের ওপর ভরসা করেই বেড়ে ওঠে। আবার কোথাও মুখ দেখাদেখি বন্ধ, সামান্য কিছুতেই শুরু হয়ে যায় দাঙ্গা। এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল বেঙ্গালুরু। নামাজ পড়ার সময় হনুমান চল্লিশা চলতেই শুরু হলো মারধর দাঙ্গা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে রোজা। শুরু হয়েছে রমজান মাস। এই সময়টা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা দিনভর রোজা রাখেন। রোজা রাখার অর্থ উপবাস করা। সূর্যাস্তের পরে নিয়ম মেনে উপবাস ভাঙা হয় নামাজ পড়ে। সেই সময়ে ফলাহার করেন তারা।

সন্ধ্যাবেলা চলছিল রমজানের নমাজ পড়া। সেই সময়ই দোকানে হনুমান চল্লিশা চালিয়েছিলেন এক ব্যবসায়ী। কেন নমাজের সময় ধর্মীয় গান চলছে, এনিয়ে ওই ব্যবসায়ীর সাথে বচসা শুরু হয় একদল যুবকের।অভিযোগ, বিবাদ জেরে ওই ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর করেন যুবকরা। ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর জামা মসজিদ রোড এলাকায়। বচসা দেখা দিলেও, এখানে দেখা যায়নি পুলিশের। নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যবসায়ীর নাম মুকেশ। তাঁর একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। ওই ব্যবসায়ী ঘটনা বিবরণ করতে গিয়ে বলেছেন, “রবিবার সন্ধ্যেবেলা তিনি দোকানে হনুমান চল্লিশা চালিয়েছিলেন। অভিযোগ সেই সময় ৬ জন যুবক এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে নমাজ পড়ার সময় কেন তিনি ধর্মীয় গান চালিয়েছেন? প্রথমে ওই যুবকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে ঝগড়ার সূত্রপাত হলেও মুহূর্তেই তা বড় আকার ধারণ করে।ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি।” এমনকি মারধর করে স্পিকারের সঙ্গে মাথা ঠুকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবকদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় লোকজন মারফত জানা গেছে ওই যুবকরা মুসলিম সম্প্রদায়ের।

এই ঘটনা নিয়ে মুকেশের অভিযোগ, “গত দুমাস ধরে এই যুবকরাই তাঁকে ক্রমাগত হেনস্তা করছে। ভয় দেখিয়ে তাঁর থেকে টাকা নেওয়ারও চেষ্টা করেছিল তারা।” এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুকেশ, এলাকার স্থানীয় লোকজন ও অন্যান্য দোকানদাররা। তাদের অভিযোগ, “এদিনের ঘটনার পরই ওই যুবকদের বিরুদ্ধে হালাসুরু গেট থানায় অভিযোগ জানাতে যান সকলে। কিন্তু প্রথমে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযোগ নিতে চায়নি। যার জেরে সকলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এবং থানার সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, অপরাধীদের দ্রুত উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয় থানায়। স্থানীয়দের বিক্ষোভে চাপের মুখে পুলিশ তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles