২০১৮ সালে করা একটি ঘৃণ্য অপরাধের দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হল মুম্বইয়ের মুরগি বিক্রেতা মহম্মদ খাতিরের। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিবেশী এক বছর পাঁচেকের ছেলের গোপনাঙ্গে হাত দিয়েছেন ৫৮ বছরের ওই ব্যক্তি, এমনকি বাচ্চাটির উপর হস্তমৈথুনও করেছেন ওই ব্যক্তি, এমনই অভিযোগ করা হয়েছে।
সমস্ত অভিযোগ শোনার পর বিচারপতি এম এ বারালিয়া রায় দেন যে এত পকসো আইনের ৬ ও ১০ ধারার আওতায় পড়ে। এই আইন অনুযায়ী, কোনও বাচ্চার শরীর আপত্তিজনকভাবে স্পর্শ করলে ও তা যদি সরাসরি ত্বকের সঙ্গে স্পর্শ হয় ও শরীরে কোনও অঙ্গ প্রবেশ করানো হয়, তাহলে তা যৌন হেনস্থা হিসেবে গণ্য হবে ও তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অভিযুক্তের পক্ষের উকিল আদালতে জানান যে অভিযুক্ত মুম্বইতে কাজের সূত্রে থাকেন। নিজের বাড়িতে তার স্ত্রী ও দুই অবিবাহিতা কন্যা রয়েছে। ব্যক্তির তিন মেয়ের বিয়ে ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে তার অন্ধ ভাইও রয়েছে। আর পরিবারের একমাত্র রোজগেরে হলেন এই মুরগি বিক্রেতা। এই কারণে তার শাস্তি মার্জনা করার কথাও বলেন অভিযুক্ত পক্ষের উকিল। কিন্তু আদালতের তরফে ব্যক্তির শাস্তি কমানো হলেও, তার শাস্তি মকুব করা হয় না।
ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে। অভিযোগ পাঁচ বছরের এক বাচ্চা ছেলে তার বাড়ির সামনে খেলা করছিল। সেই সময় অভিযুক্ত যে মুরগিওয়ালা কাকা নামেও পরিচিত, সে বাচ্চাটিকে ২ টাকার লোভ দেখিয়ে তার ঘরে নিয়ে যায়। এরপর বাচ্চাটিকে উলঙ্গ করে তার গোপনাঙ্গে হাত দেয় ও বাচ্চাটির উপরই হস্তমৈথুন করে। এরপর ভয় পেয়ে যাওয়া বাচ্চাটি তার মা-কে সবকথা বললে বাচ্চাটির মা-বাবা পুলিশের দ্বারস্থ হন। মুম্বইয়ের ওয়াডালা টিটি থানায় ওই মুরগি বিক্রেতার নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু এদিকে সেই মুরগি বিক্রেতা নিজের সাফাইয়ে বলেন যে তার উপর নাকি শয়তান ভর করেছিল, তাই সে এই ঘৃণ্য কাজ করে। তবে তা শুনতে বা মেনে নিতে অস্বীকার করেন বাচ্চাটির অভিভাবক ও মামলা দায়ের হয় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। এরপর ২ বছর মামলা চলার পর অবশেষে অভিযুক্তের কারাদণ্ডের শাস্তি ঘোষণা করে মুম্বইয়ের পকসো আদালত।





