রোজকার জীবনযুদ্ধে অনেক কিছুই দেখতে পাওয়া যায়! কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা আমাদের মনে একটাই প্রশ্ন তোলে—মানুষ কি সত্যিই এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে? পরিবারের মধ্যেই যখন একজনকে অকথ্য নির্যাতন সইতে হয়, তখন সে আর কোথায় যাবে? আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া এক মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ংকর সত্য, যা প্রকাশ্যে আসতেই কেঁপে উঠেছে সবাই! এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর পরিবারের দাবি ছিল, তিনি নিজেই নিজের জীবন শেষ করেছেন। সবাই সেটাই মেনে নিচ্ছিল, কিন্তু তারপরই সামনে এল একটি ভিডিও—যেখানে দেখা গেল, মৃত্যুর আগে তিনিই নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন! তাহলে সত্যিটা কী?
একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তি প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছেন, কিন্তু তাকে কেউ রেহাই দিচ্ছে না! তার স্ত্রী তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন, আর বড় মেয়েরা লাঠি দিয়ে আঘাত করছে। তিনি পালানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু পারেননি। আশেপাশের কেউ তাকে সাহায্য করতেও আসেনি। আর তারপর… কিছুদিন পরেই তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়! তাহলে এটি সত্যিই আত্মহত্যা ছিল, নাকি পরিকল্পিত খুন?
ঘটনার সূত্রপাত এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন এই দাবি থেকে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি নিজের জীবন নিজেই শেষ করেছেন। পুলিশও প্রথমে সেটাই ধরে নিয়ে তদন্ত করছিল। কিন্তু ঘটনাটির কয়েক দিন পর একটি ভিডিও সামনে আসে, যা দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে যায় সবাই। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে। আর এই ভিডিও সামনে আসতেই পুলিশের তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
আরও পড়ুনঃ TMC রাজত্বে দাদাগিরি! ১০ প্লেট বিরিয়ানি বিনামূল্যে না পেলেই ব্যবসায়ীর মাথা ফাটিয়ে হামলা!
জানা গেছে, মৃত ব্যক্তি একজন ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। সম্প্রতি তিনি তার দুই বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়ের পরেই তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ শুরু হয় এবং তার স্ত্রী বিচ্ছেদের দাবি করেন। পারিবারিক অশান্তির মধ্যেই হঠাৎ তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, নতুন তথ্য সামনে আসতে শুরু করে। ভিডিওটি ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারির বলে জানা গেছে। কীভাবে এটি ভাইরাল হলো, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ভিডিও সামনে আসার পর পুলিশ আর আত্মহত্যার তত্ত্বে বিশ্বাস করছে না। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের মোরেনায়। ৫৩ বছর বয়সী হরেন্দ্র মৌর্যের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল তার বাড়ি থেকে। প্রথমে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধরা হলেও, ভিডিও সামনে আসার পর তদন্ত অন্য দিকে মোড় নিয়েছে। মোরেনার এসপি সমীর সৌরভ জানিয়েছেন, ‘‘প্রাথমিকভাবে আমরা আত্মহত্যা বলে ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু নতুন ভিডিও প্রকাশের পর তদন্তের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। আমরা এখন অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছি।’’ ফরেনসিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। সেটি হাতে এলেই জানা যাবে, এটি সত্যিই আত্মহত্যা ছিল নাকি নৃশংস খুন!






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার