ফের ফিরল ২০১২ সালের স্মৃতি। ফের ঘটল চলন্ত বাসে তরুণীকে গণধ’র্ষ’ণের ঘটনা। দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি এখনও সকলের মনে দগদগে হয়ে রয়েছে। সেই ঘটনা ভুলে যায়নি আপামর দেশবাসী। আবার ঘটল তেমনই ঘটনা। চলন্ত বাসের মধ্যে ১৯ বছরের এক তরুণীকে গণধ’র্ষ’ণ করল চালক ও বাসের কর্মীরা।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ৯ এবং ১০ ডিসেম্বরের মাঝের রাতে। জানা গিয়েছে, ওইদিন একটি বেসরকারি বাস উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে রাজস্থানের জয়পুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সেই বাসে করেই জয়পুরে নিজের কাকার বাড়ি যাচ্ছিলেন নির্যাতিতা তরুণী। সূত্রের খবর, তরুণীকে বাসের চালক, কন্ডাক্টর আরিফ খান ও ললিত কুমার বলে, তাঁর ঘুম পেলে তিনি চালকের কেবিনে বার্থে উঠে শুয়ে পড়তে পারেন।
তাদের বিশ্বাস করাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তরুণীর। চালকের কেবিনের বার্থে শুয়ে পড়েন তরুণী। এরপর কেবিনের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। কেবিনের মধ্যে জোরে গান চালিয়ে দেয় তারা যাতে কোনও আওয়াজ বাইরে না যায়। এরপরই চলন্ত বাসের মধ্যে দলিত তরুণীকে গণধ’র্ষ’ণ করা হয়।
প্রথমে কিছু বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণ পর সন্দেহ হয় বাসের বাকি যাত্রীদের। কানোটা পেট্রোল পাম্পের কাছে বাস দাঁড়াতেই যাত্রীরা চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকেন। সেই চিৎকার শুনে ছুটে আসে সেখানে থাকা পুলিশ।
পুলিশ এসে উদ্ধার করে তরুণীকে। সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয় আরিফকে। কিন্তু ললিত ততক্ষণে পালিয়ে যায়। তাকে খুঁজতে আলাদা আলাদা দল গঠন করে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গণধ’র্ষ’ণ-সহ ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনা ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া দিল্লি গণধ’র্ষ’ণ কাণ্ডের স্মৃতিকে ফের উস্কে দিল। সেই বছর ডিসেম্বর মাসে এভাবেই চলন্ত বাসের মধ্যে এক তরুণীকে গণধ’র্ষ’ণ করেছিল বাসের চালক, কন্ডাক্টর ও আরও কয়েকজন। তরুণীর যো’নিপথে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনা হয়েছিল অন্ত্র। চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন ওই তরুণী। ১১ বছর পর ফের তেমনই ঘটনা ঘটল জয়পুরে।





