এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কৃষি আইন আইন নিয়ে গোটা দেশে নানান বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই আইন যাতে প্রত্যাহার করা হয়ে, তা নিয়ে বারবার দাবী উঠেছে। রাজ্যসভা থেকে লোকসভা উত্তাল হয়েছে। এরপর আজ, শুক্রবার সকালে অপ্রত্যাশিতভাবেই এই কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কৃষকদের দুরবস্থা দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের দাবী, দেশের নিরাপত্তার কারণেই এই আইন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই কৃষক আন্দোলনের আড়ালে ক্রমেই দেশে ভারত-বিরোধী শক্তি প্রকট হয়ে উঠছিল। কৃষক আন্দোলনের নাম করে নানান কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। আর একথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসতে শুরু করেছিল।
এই কারণেই তিনি হঠাৎই কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। গোয়েন্দাদের তরফে জানানো হয় যে কৃষক আন্দোলনের নামে নানান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্রোহের বীজ বপণ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। আজকের এই সিদ্ধান্তের পিছনে দেশের নিরাপত্তাই রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই ঘোষণার পর কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে আরএসএসের শাখা সংগঠন ‘স্বদেশি জাগরন মঞ্চ’। তাদের তরফেও দাবী করা হয়েছে যে কৃষক আন্দোলনের ভারত-বিরোধী শক্তি প্রবেশ করছিল। তাদের আশা, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নতুন দিশা দেখাবে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষের টুইটেও এই ইঙ্গিতই মিলেছে। এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্যে কৃষি আইন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন, সেই বক্তব্যের একটি লাইন উদ্ধৃত করে বিএল সন্তোষ লিখেছেন, “এই লাইন শত্রু ও মিত্র উভয়েই চিরকাল মনে রাখবে”।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সেই বাক্যের বাংলা অনুবাদ করলে হয়, “যা করেছিলাম, কৃষকদের কথা ভেবে, আর আজ যা করছি, তা দেশের কথা ভেবে”। বিএল সন্তোষ এও জানান যে ইতিহাস এই বাক্যটা মনে রাখবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপি নেতা এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে দেশের সুরক্ষার কারণেই মূলত এই কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
https://twitter.com/blsanthosh/status/1461618301717532677?ref_src=twsrc%5Etfw
https://twitter.com/blsanthosh/status/1461569993116512256?ref_src=twsrc%5Etfw
আজ শুক্রবার সকালে গুরুনানক জয়ন্তীতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়েই সকলকে চমকে দেন প্রধানমন্ত্রী। ঘোষণা করেন কৃষি আইন প্রত্যাহারের। ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারী কৃষক থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলি সকলেই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান, কৃষকদের পরিশ্রম, দুর্দশা, নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে কৃষকদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।





