এই দুনিয়ায় কতই যে আজব ঘটনা ঘটে, এর কোনও ইয়ত্তা নেই। ভগবান বিশ্বাস করেন, এমন মানুষের অভাব নেই। তবে সেই ভগবানের প্রতি সবকিছু নিঃস্বার্থভাবে উজাড় করে দিতে বোধ হয় সকলে পারেন না। এমনই এক পরম ভক্তের কথা জানা গেল গতকাল।
ভগবান গোপালের হাত ভেঙে গিয়েছিল। সেই মূর্তি নিয়েই পুরোহিত ছুটেছিলেন হাসপাতালে। গোপালের হাতে ব্যান্ডেজ করে দেওয়ার জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি জুড়ে দেন তিনি। এর জেরে বেশ অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েন হাসপাতাল কর্মীরা।
ঘটনাটি ঘটেছে আগ্রা জেলা হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, গতকাল, শুক্রবার সকালে এই পুরোহিত আসেন ওই হাসপাতালে। জানান তাক্র দেবতা মূর্তির হাত ভেঙে গিয়েছে। সেই হাত সারিয়ে দিতে হবে। এর জন্য বেশ কান্নাকাটি করেন তিনি। বেশ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ‘শ্রীকৃষ্ণ’ ভগবানের নামে একটি রেজিস্ট্রেশন করানো হয় ও ভগবানের ভাঙা হাতটি ব্যান্ডেজও করে দেওয়া হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গোপালের হাত ভেঙে যাওয়ার কারণে এক পুরোহিত মশাই বেশ কান্নাকাটি করছেন। কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর কথা অনুযায়ী, সকাল ৯ টা নাগাদ ওই পুরোহিত জেলা হাসপাতালে পৌঁছন। হাসপাতাল কর্মীদের কাতরভাবে আবেদন করতে থাকেন যাতে তাঁরা মূর্তির চিকিৎসা করেন।
লেখ সিংহ নামে ওই পুরোহিতের দাবী, তিনি স্নান করানোর সময় মূর্তির হাত ভেঙে ফেলেছেন। তিনি জানান, “সকালে যখন আমি পুজো করছিলাম আর ঈশ্বরকে স্নান করাচ্ছিলাম তখন মূর্তিটা আমার হাত থেকে পড়ে যায় এবং হাত ভেঙে যায়”।
তাঁর কথায়, “আমি ঈশ্বরের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ফলে আমি খুবই আঘাতপ্রাপ্ত হই। বাধ্য হয়ে আমি হাসপাতালের দ্বারস্থ হই যাতে তাঁরা সুশ্রুষা করে দেন”।
জানা গিয়েছে, লেখ সিংহ গত ত্রিশ বছর ধরে অর্জুন নগরের খেরিয়া মোড়ের পাথোয়াড়ি মন্দিরের পৌরহিত্যের কাজ করছেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালে কেউ আমার আবেদনকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু আমি অন্তর থেকে ভেঙে পড়েছিলাম এবং আমার ঈশ্বরের জন্য কাঁদতে শুরু করি”।
অন্যদিকে, জেলা হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট, ডা. অশোক কুমার আগরওয়াল জানান, তাঁকে খবর দেওয়া হয় যে এক পুরোহিত এসেছেন তাঁর দেবতার মূর্তির ভাঙা হাতের চিকিৎসা করাতে। এও জানানো হয় যে তিনি কান্নাকাটিও করছেন। ওই পুরোহিতের অনুভূতির কথা মাথায় রেখেই হাসপাতালের পক্ষ থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণ’-এর নামে রেজিস্ট্র্রেশন করানো হয়েছে বলে জানানো হয়।





