দিল্লির অশান্তির দায় কংগ্রেসেরই – অমিত শাহ

দিল্লিতে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে অশান্তি ছড়ানো হয়েছিল। লোকসভায় দাঁড়িয়ে সে কথা স্বীকার করে নিয়েও নাম না করে অশান্তির দায় কংগ্রেসের ঘাড়েই চাপালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই ঘটনায় কপিল মিশ্রদের মতো বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে যে উস্কানি মূলক মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছিল তাকে আড়াল করতেই তিনি বললেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে।’ আবার কংগ্রেসের নাম না করে তোপ দাগলেন, ‘একটা বড় পার্টির মিছিল বেরিয়েছিল। যারা সেই মিছিল থেকে আওয়াজ তুললো ঘর থেকে বের হও। ওই মিছিল থেকে বলা হল এই লড়াই নাছোড় লড়াই। এইটাকে ঘৃণাসূচক মন্তব্য বলে মনে হচ্ছে না!’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এহেন যুক্তির পরই লোকসভা ছেড়ে ওয়াকআউট করেন কংগ্রেস এবং আইইউএমএল সাংসদরা।

তবে কংগ্রেসের ঘাড়ে দোষ চাপালেও উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশান্তি যে নিছক উস্কানির ফলাফল নয় তা নিজেও জানেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাই লোকসভায় দাঁড়িয়েই তিনি বলেন, ‘আমরা এই অশান্তিকে খুব সাধারণ ভাবে দেখছি না। এই অশান্তি পূর্বপরিকল্পিত। যাঁরা এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাঁদের আমি আশ্বাস দিতে চাই, দোষীদের রেয়াত করা হবে না। সে যে কোনও ধর্মের, যে কোনও জাতের, যে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হোক না কেন।’ পূর্বপরিকল্পনা করে হিংসার তত্ত্বে জোর দিয়ে অমিত আরও বলেন, ‘কোনোরকম পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া এত কম সময়ে এত বড় অশান্তি ছড়ানো সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই আমরা দিল্লির অশান্তিতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে একটি এফআইআর দায়ের করেছি। এমন তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে যারা উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে অশান্তি ছড়াতে আর্থিকভাবে মদত দিয়েছিল। গোটা ঘটনায় দিল্লি পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করবে।’ এমনকি উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে অশান্তি পাকাতে উত্তরপ্রদেশ থেকে ৩০০ জনের একটি বহিরাগত দল ঢুকেছিল বলেও মন্তব্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। দিল্লি হিংসায় পূর্ব পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লিতে অশান্তি ছড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ৬০টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছিল। ২৬ তারিখ যেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারা এর পিছনে ছিল পুরো বিষয়টি পুলিশ খুঁজে বার করবে।’

তবে উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশান্তি চলাকালীন দিল্লি পুলিশ কী করছিল এই প্রশ্ন বারবার উঠেছে। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অমিত শাহ এদিন বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ ওই সময় যথার্থভাবে নিজেদের কাজ করেছে। আগামী দিনে সে বিষয়ে পুলিশ একটি রিপোর্ট জমা দেবে। বরং আমি দিল্লি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে দিল্লির অন্যান্য এলাকায় তারা এই হিংসা ছড়াতে দেয়নি।’ এমনকি ‘৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দিল্লির অশান্তি আয়ত্ত্বে এনেছে দিল্লি পুলিশ’ বলেও দাবি অমিতের।

প্রশ্ন উঠেছিল অশান্তির সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিল্লিতে থেকেও কেন তেমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন না! কেনই বা হিংসা কবলিত এলাকায় একবারও দেখা গেল না তাঁকে! অমিতের যুক্তি, ‘দিল্লির অশান্তি কবলিত এলাকায় আমি যাইনি তার কারণ আমি চাইনি পুলিশ আমার নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ুক। তার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান পূর্ব-নির্ধারিত ছিল। যা হচ্ছিল আমার লোকসভার এলাকার মধ্যে। সেখানে আমার গিয়ে দেখা করাটাও একটি পূর্ব নির্ধারিত বিষয়। তার পরদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দিল্লিতে এসেছেন কিন্তু সেই সময় আমি কোনও অনুষ্ঠানে যোগদান করিনি। এই গোটা সময়টা ধরে পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে আমি বৈঠকে ছিলাম।’ শুধু তাই নয়, উত্তর-পূর্ব দিল্লির অশান্তি থামাতে পুলিশকে সাহায্য করার জন্য জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালকে আমিই হিংসা কবলিত এলাকায় যেতে বলেছিলাম বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিজে পীড়িতদের সঙ্গে দেখা করতে যাননি। যদিও লোকসভায় দাঁড়িয়ে এদিন দিল্লির অশান্তিতে মৃত সকলের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জ্ঞাপন করন। আশ্বাস দিয়েছেন, ‘যারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আইনের হাত থেকে মুক্তি পাবে না।’

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles

Leave a Comment