বাবা, ঠাকুরদা একনিষ্ঠ কংগ্রেস কর্মী ছিলেন। দলের প্রতি তাঁদের আনুগত্য, কাজকর্ম দেখেই ছোট থেকে বড় হয়েছেন। তাই রাজনীতি বুঝতে বা রং বাছাই করতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার। রাজনীতিটা যে তাঁর রক্তের মধ্যেই ছিল। তাই বাবা, ঠাকুরদার মত তিনিও অতি অল্প বয়সেই কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী হয়ে ওঠেন। তারপর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে পেয়ে সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও হন। কিন্তু ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করেই দলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে চিড় ধরে। তারপর কমল নাথ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হলে সেই চিড় ফাটলের আকার নেয়। আর তার জেরেই আজ হাত ছেড়ে পদ্ম ধরলেন মাধবরাও সিন্ধিয়ার পুত্র জ্যোতিরাদিত্য।
তবে সিন্ধিয়া পরিবারে এই দল বদলের ঘটনা প্রথম নয়। বলা ভাল, জ্যোতিরাদিত্যর কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান এবং কমল নাথের সরকারের টালমাটালের ঘটনার পিছনেও তাঁর পারিবারিক ইতিহাস নিহিত রয়েছে। জ্যোতিরাদিত্যর ঠাকুমা বিজয়ারাজে সিন্ধিয়া ওরফে রাজমাতাও ১৯৬৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে জনসঙ্ঘে যোগ দিয়েছিলেন। সেবারও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে তাঁর দলত্যাগের ফলে মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকার পড়ে যায়। যদিও মহারাজা কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। কিন্তু তাঁর বিপরীতে দাঁড়িয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বিজেপি কর্মীই ছিলেন রাজমাতা। তাঁর মেয়ে বসুন্ধরা রাজে মায়ের মতই বিজেপির সক্রিয় কর্মী হয়ে ওঠেন। আরেক মেয়ে যশোধরা বিজেপির সক্রিয় কর্মী না হলেও কংগ্রেসকে কখনও সমর্থন জানাননি। ‘বিপথগামী’ হন কেবল ছেলে মাধবরাও সিন্ধিয়া। তিনি প্রথমে মায়ের পথে হাঁটলেও পরে বাবা তথা মহারাজের দেখানো পথেই চলেন। ১৯৮৪ সালে জনসঙ্ঘ ছেড়ে লোকসভা ভোটে গ্বালিয়রে অটলবিহারী বাজপেয়ীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রার্থীও হন। রাজমাতা অবশ্য মাধবরাওয়ের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেননি। তাই ছেলের বিরুদ্ধে প্রচারেও নামেন। মা-ছেলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ হলেও মাধবরাওকে কংগ্রেস থেকে সরানো যায়নি। তবে নাতি জ্যোতিরাদিত্য একদিন বাবার এই ভুল শুধরে নেবেন বলে নাকি বিশ্বাস ছিল বিজয়রাজের। তাঁর সেই বিশ্বাস সত্যি হল বলেই মনে করছেন যশোধরা।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি! ঠাকুমার পথে হেঁটেই দলবদল করলেন জ্যোতিরাদিত্য
আরও অন্যান্য খবর





