লোকসভা ভোটের আগে এক বড় মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে বিজেপি। অবশেষে সাড়ে চার বছর আগে পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল কার্যকর হয়েছে গোটা দেশজুড়ে। তবে এই বিল কার্যকর হতেই ধেয়ে এসেছে বিরোধীদের কটাক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এই বিলের বিরোধিতা করে এসেছেন। তাঁর দাবী, হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতেই এই আইন। এবারতাকে জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
কী বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?
অমিত শাহ্’র কথায়, “আমি সিএএ নিয়ে কমপক্ষে ৪১ বার বলেছি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। আমি বারবার বলেছি যে দেশের সংখ্যালঘুদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই কারণ সিএএ-তে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার কোনও বিধান নেই”।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, আই আইনের লক্ষ্য, নির্যাতিত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান করা। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ৩ ডিসেম্বরের আগে যে হিন্দু, শিখ, জৈন, খ্রিষ্টান, পার্শি ধর্মাবলম্বীরা অনুপ্রবেশ করেছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া। তিনি আরও বলেন, “সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী মুসলিম নাগরিকরাও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই আইন (সিএএ) আনা হয়েছে পড়শি তিন দেশ থেকে উৎখাত হওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নয়”।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এই সিএএ আসলে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার আইন। এই প্রসঙ্গে মমতার উদ্দেশে শাহ বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এমন একটি ইস্যুতে আপনি রাজনীতি করছেন। আপনি যদি এভাবে তোষণের রাজনীতি করতে থাকেন আর শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে না চান, তাহলে মানুষ আপনার পাশে আর থাকবে না। অনুপ্রবেশকারী ও শরণার্থীর মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না মমতা”।
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নয়, অন্যান্যরা বিরোধীদের উদ্দেশেও এদিন শাহ বার্তা দিয়ে বলেন, “এই আইন সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদকে উলঙ্ঘন করে না। এর মধ্যে স্পষ্ট তফাত রয়েছে। এই আইন আনা হয়েছে তাদের জন্য যারা দেশভাগের কারণে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে রয়ে গিয়েছিলেন এবং ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে চলে এসেছিলেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য”।





