হিজাব ইস্যু নিয়ে দেশে বিতর্ক থামার নাম নেই। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এই নিয়ে নিজের মতামত জানান শাহ। তাঁর মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইউনিফর্মকে মান্যতা দেওয়া উচিত, ধর্মীয় পোশাককে নয়। তিনি এও জানান যে কর্ণাটক হাইকোর্টে এই বিষয়টি বিচারাধীন। তাই হাইকোর্ট যা সিদ্ধান্ত নেবে, তিনিও তাই-ই মেনে নেবেন।
গত ৫ই ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কর্ণাটক সরকার। আর এরপর থেকেই হিজাব ইস্যু নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সেই রাজ্যে। উদুপি জেলায় বিক্ষোভের জেরে স্কুল-কলেজগুলি রীতিমতো রণক্ষেত্রের রূপ ধারণ করেছিল।
এহেন বিক্ষোভের জেরে বেশ কর্ণাটক সরকার বেশ কিছুদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করে। সরকারের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কয়েকজন মুসলিম পড়ুয়া আদালতে আবেদন করেছিলেন। বর্তমানে কর্ণাটক হাই কোর্টে ওই মামলার শুনানি চলছে।
এবার অবশেষে এই হিজাব বিতর্ক নিয়ে মুখ খোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সব ধর্মের মানুষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ড্রেসকোডকে মান্যতা দেওয়া উচিত। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দেশ সংবিধান অনুযায়ী চলবে না ব্যক্তিগত ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেবে”।
এদিন শাহ আরও বলেন, “আদালত যতদিন না সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এই বিষয়ে ততদিন পর্যন্ত আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস থাকতে পারে। এর পর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে তাকে আমি মেনে নেব। প্রত্যেকেরই মানা উচিত”।
উল্লেখ্য, গোটা দেশ তো বটেই, বিদেশেও কর্ণাটকের হিজাব বিতর্কের আঁচ ছড়িয়েছে। পাক বিদেশ মন্ত্রী থেকে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই, বিখ্যাত ফুটবলার পল পোগবা পর্যন্ত এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। এমনকী হিজাব বিতর্কে ভারতের সমালোচনা করেছে আমেরিকাও। এর পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে যে এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিষয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।





