মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) বিস্ফোরক মন্তব্য করে সাধারণ মানুষকে আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু সৌজন্য দেখানোর জন্যই এক পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়েছে, যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার গভীর রাতে বহরমপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ, কৃষ্ণ ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আচমকা হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এই ঘটনায় কৃষ্ণবাবু-সহ মোট তিনজন গুরুতর জখম হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্কের পরিবেশ।
আহত পরিবারের এক সদস্য দিয়া ঘোষ জানান, শনিবার রাত দশটা নাগাদ তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় কয়েকজন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী তাঁদের লক্ষ্য করে কুমন্তব্য করে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। এরপর কিছুক্ষণ পরেই বাড়িতে ঢুকে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুরের পাশাপাশি নির্বিচারে মারধর করা হয় পরিবারের সদস্যদের উপর। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তিনি আক্রান্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন। অধীর জানান, ভোটের দিন ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর শুধুমাত্র সৌজন্য বিনিময় হয়েছিল। তিনি বলেন, গরমের কারণে একটি মন্দিরে বসে থাকার সময় তাঁকে জল ও মিষ্টি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা তিনি নেননি। তবে ওই পরিবারের লোকজন তাঁর জন্য একটি ফ্যান চালিয়ে দেন। তাঁর দাবি, এই সামান্য ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ওই পরিবারের উপর হামলা চালানো হয়েছে। যদিও আক্রান্তরা তাঁর দলের সমর্থক কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলেও জানান।
আরও পড়ুন: ডেলিভারি করতে হবে পার্সেল নয়, কুকুর! র্যাপিডো কর্মীকে অবাক করে দিলো এই ‘মিষ্টি পার্সেল’! তারপর যা হল, ভাইরাল ভিডিওতে মুগ্ধ নেটিজেনরা!
এরপরই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, “দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” একইসঙ্গে তিনি বাড়িতে লাঠি-বল্লম রাখার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনে পাল্টা আক্রমণের কথাও বলেন। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় প্রশাসনের কার্যত কোনও ভূমিকা নেই। অন্যদিকে, এই ঘটনায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বহরমপুর শহর যুব তৃণমূল সভাপতি পাপাই ঘোষের নামেও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। গোটা ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ছে, আর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই উঠছে বড় প্রশ্ন।





