সত্তর বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ, অবশেষে পুনর্নির্মাণ করে কাশ্মীরের ২৩০০ বছর পুরনো শারদা মন্দির উদ্বোধন করলেন শাহ

সত্তর বছরের বেশি সময় ভাঙাই পড়েছিল ওই মন্দির। অবশেষে নতুন করে গড়ে গতকাল, বুধবার কূপওয়াড়া জেলার টিটওয়াল গ্রামে দেবী শারদার মন্দির উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই মন্দিরের উদ্বোধন করেন তিনি। স্বাধীনতার পর থেকে এই প্রথম নিয়ন্ত্রণ রেখার ঠিক পাশেই কোনও মন্দিরের উদ্বোধন হল।  

এই শারদাপীঠ হল ১৮টি মহাশক্তি পীঠের একটি পীঠ। এই মন্দির ও শারদা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে মুজফফরাবাদ থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরে নীলম উপত্যকায়। ষষ্ঠ থেকে বারোশো শতকের মাঝে ভারতীয় উপমহাদেশে এই মন্দির বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই বিশ্ববিদ্যালয় নালন্দা-তক্ষশীলার থেকেও প্রাচীন। এক সময় বিদেশি হানাদারদের হামলায় এই বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যায়। সেই স্মৃতি স্মরণে রেখেই কাশ্মীরে এই নতুন মন্দির পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্যে রেখেই কেন্দ্রীয় সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এই মন্দির উদ্বোধনের পর অমিত শাহ জানান, নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে প্রাচীন শারদা মন্দির রয়েছে। সেখানে যাতে ভক্তরা যাতায়াত করতে পারেন, সেই জন্য কর্তারপুর করিডোর ধাঁচেই একটি পথ তৈরির কথা পরিকল্পনা করছে সরকার।

এই শারদাপীঠের উদ্দেশে একসময় বর্তমানের টিটওয়াল গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু হত বলে জানা যায়। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর পাক হানাদাররা এই টিটওয়ালের মন্দির ও গুরুদ্বার ধ্বংস করে দেয়। সেই সময় থেকেই ওই এলাকায় মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবী করে আসছিলেন সেখানকার পণ্ডিতরা।  

এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্দিরের উদ্বোধন করে অমিত শাহ বলেন, “৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের পরে কাশ্মীরের পরিস্থিতি যে শান্ত হয়েছে, তা সীমান্ত এলাকায় ওই মন্দির নির্মাণ থেকেই স্পষ্ট। কেবল হিন্দু মন্দিরই নয়, জঙ্গিরা বিভিন্ন সময়ে যে সুফি তীর্থস্থানগুলি ভেঙে দিয়েছে, সেগুলিও পুনরুদ্ধার করবে মোদী সরকার”।

RELATED Articles