শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, পুরসভার ক্ষেত্রেও হয়েছিল নিয়োগ দুর্নীতি। সেই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এবার তদন্তের নির্দেশ দিলেন পুরমন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বিগত কয়েক বছরে কলকাতা পুরসভা ছাড়া বাকি যেসমস্ত পুরসভা ও পুরনিগমে স্থায়ী কর্মীর নিয়োগ কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট তৈরি করার নির্দেশ দিলেন পুরমন্ত্রী।
গতকাল, বুধবার এই বিষয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “একটা তদন্ত হচ্ছে। আমরা ডিপার্টমেন্টকে বলেছি কী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে দেখে নিয়ে তা রেখে দিতে। আমাদের তো এখনও আদালত কোনও অর্ডার দেয়নি। সুতরাং আগ বাড়িয়ে এখনই কিছু করব না। তবে কোথাও দুর্নীতি হল কি না, পৌরসভাগুলিতে কোনও কর্মী নিয়োগ হলে তা চুক্তিভিত্তিক নাকি অন্য কিছু সব তথ্য খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে”।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত অয়ন শীলকে জেরা করে ইডি জানতে পেরেছে যে অয়নের সস্থা এবিএস ইনফোজেন-এর মাধ্যমে রাজ্যের ৬০টিরও বেশি পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। প্রায় ৫০০০ প্রার্থীকে বেআইনিভাবে নিয়োগ করা হয়েছে নানান পুরসভায়।
ইডি-র দাবী, শিক্ষক নিয়োগের মতোই পুরসভার নিয়োগেও ভয়ঙ্কর দুর্নীতি হয়েছে। এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যারা পরীক্ষাই দেন নি বা অনেকে এমন রয়েছেন যারা পরীক্ষার ফর্মও ফিলাপ করেন নি, তারাও চাকরি পেয়েছেন পুরসভায়।
ইডি সূত্রে খবর, অয়ন শীলের সল্টলেকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নানান পুরসভার কাউন্সিল অফিসের নানান পদে চাকরির জন্য ওএমআর শিট ও উত্তরের নথি মিলেছে। পদগুলির মধ্যে মজদুর পদও ছিল। এমনকী চাকরিপ্রার্থীদের সই করা উত্তরপত্রের নথি পাওয়া গিয়েছে। সেই সব পুরসভার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল কামারহাটি পুরসভা, হালিশর পুরসভা, পানিহাটি পুরসভা, বরানগর পুরসভা, উত্তর ও দক্ষিণ দমদম পুরসভা। এছাড়াও, এই সংস্থার মাধ্যমে দমকলের নিয়োগও হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসছে।





