বিহার থেকে শুরু করে দিল্লি— সর্বত্র এখন গরম রাজনীতির মঞ্চ। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision – SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলির সরব প্রতিবাদ থামছেই না। বিশেষত বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। তবে সরকার পক্ষের দাবি, এটি কোনও নতুন উদ্যোগ নয়, বরং বহু আগেই এর সূচনা হয়েছিল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সময়েই।
এসআইআর চালু হতেই বিহারের রাজনীতিতে যেন নতুন বিতর্কের ঢেউ। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। এর মধ্যে আছেন বহু মৃত ভোটার, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার এবং একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপির ইশারায় এই পদক্ষেপ হচ্ছে যাতে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল হয়। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তারা এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক লিখিত আপত্তি জানায়নি।
শুক্রবার বিহারের এক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবকে আক্রমণ করেন। তাঁর কথায়, “ভোটার তালিকায় সংশোধন কোনও নতুন বিষয় নয়। নেহরুজিই এর সূচনা করেছিলেন। ২০০৩ সালে শেষবার এটি হয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “ভোটার তালিকাকে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করা জরুরি। অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে যদি কংগ্রেস বা আরজেডি ক্ষমতায় আসতে চায়, তবে বিহারের মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।”
অমিত শাহ অভিযোগ করেন, বিরোধীরা বারবার নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করছেন আসলে নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের ভয়ে। তাঁর বক্তব্য, রাহুল গান্ধী আগে থেকেই অজুহাত প্রস্তুত করে রাখছেন। এছাড়া তিনি দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এত সমালোচনা হলেও, এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল প্রমাণসহ অভিযোগ জমা দেয়নি নির্বাচন কমিশনের কাছে।
আরও পড়ুনঃ Pakistan economy: পাকিস্তানের গোপন অর্থনীতি ! ৩ কোটি ৮০ লাখ ভিক্ষুকের আয়েই চলে দেশের ১২ শতাংশ জিডিপি!
পুরো ঘটনাই এখন বিহারের রাজনীতিতে এক বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা বলছে এটি ভোটের অধিকার হরণের চক্রান্ত, অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের দাবি এটি শুধু ভোটার তালিকা পরিশোধনের কাজ, যাতে ভুয়ো নাম এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া যায়। আসন্ন নির্বাচনে এই বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন রাজনৈতিক মহলের কৌতূহলের কেন্দ্রে।





