শান্ত গ্রামে আচমকাই নেমে এল ভয়ঙ্কর এক রাত। সীমান্তের ধারে মেঘালয়ের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম—যেখানে মানুষ সাধারণত নিরিবিলি জীবনযাপন করেন। কিন্তু গত শুক্রবার রাত সেই শান্ত পরিবেশ ভেঙে দিল একদল দুষ্কৃতী। গ্রামের মানুষ বুঝতেই পারেননি, রাতের আঁধারে কীভাবে হঠাৎ ঢুকে পড়ল বহিরাগতরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছিল ৮-৯ জনের একটি দল, যাদের সবাই বাংলাদেশি বলে অভিযোগ। তাদের লক্ষ্য ছিল একটি নির্দিষ্ট দোকান এবং তার মালিক বলসরাং এ মারাক। দোকানেই ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। আচমকাই হামলা চালিয়ে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ সীমান্ত। তবে মাঝপথে সুযোগ বুঝে পালাতে সক্ষম হন বলসরাং।
জানা গিয়েছে, প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে ছুটতে তিনি প্রথম যে বাড়িটি পান, সেখানেই আশ্রয় নেন। কিন্তু তাতেও শেষ হয়নি ভয়—পিছু ধাওয়া করা দুষ্কৃতীরা নাকি তাঁর ওপর গুলি চালায়। সেই সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু করে বিএসএফ এবং মেঘালয় পুলিশ। গ্রামজুড়ে শুরু হয় দুষ্কৃতী ধরার অভিযান।
পুলিশ ও বিএসএফ সদস্যরা দুষ্কৃতীদের তাড়া করতে করতে সীমান্তের দিকে এগিয়ে যান। পালানোর সময় কয়েকজনকে গ্রামবাসীরাও ধরে ফেলে। পরে মোট ৪ জন বাংলাদেশি দুষ্কৃতী বিএসএফ এবং মেঘালয় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সেই সময়ের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে—রক্তাক্ত, জামা-কাপড় ছেঁড়া অবস্থায় জঙ্গলের ভেতরে বসিয়ে জেরা করছে বিএসএফ।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah : “অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে যদি কংগ্রেস বা আরজেডি ক্ষমতায় আসে, বিহারের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে” — অমিত শাহ!
ধৃতদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে বাংলাদেশি পুলিশের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র উদ্ধার হয়েছে। সেটি মারুফুর রহমান নামে এক কনস্টেবলের, যার জন্ম ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি এবং আইডি নম্বর BP911139470। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে। অন্য বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের খোঁজে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে বিএসএফ।





