নতুন রিপোর্টে উঠে এসেছে একটি অবাক করা তথ্য—পাকিস্তানের অর্থনীতির বড় একটি অংশই আসছে ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ভিক্ষুকদের উপস্থিতি স্বাভাবিক হলেও, এই পেশা দেশের অর্থনৈতিক চিত্রে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা অনেকেরই জানা নেই। পাকিস্তানের এই অদ্ভুত বাস্তবতা একবার জানলে চোখ খোলা রাখাই দায়।
পাকিস্তানে বর্তমানে প্রায় ৩.৮ কোটি ভিক্ষুক রয়েছেন, যারা বছরে প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার আয় করেন। দেশের মোট জনসংখ্যা ২৩ কোটি এবং এর মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশ মানুষ অর্থ উপার্জনের জন্য ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল। শুধু দেশের ভেতর নয়, বিদেশেও পাকিস্তানের ভিক্ষুকরা সক্রিয়, যেখানে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশে ভিক্ষা করতে গিয়ে পাঁচ হাজারের বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং হাজার হাজারের পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে।
ভিক্ষাবৃত্তির এই বিপুল পরিমাণ আয় পাকিস্তানের মোট জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশের সমান। করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ সহ বড় শহরগুলোতে ভিক্ষুকদের দৈনিক গড় আয় দেশের অদক্ষ শ্রমিকদের রোজগার থেকে অনেক বেশি। করাচিতে গড়ে ২ হাজার পাক রুপি থেকে শুরু করে ইসলামাবাদে প্রায় ৯৫০ রুপি পর্যন্ত ভিক্ষুকরা প্রতিদিন উপার্জন করেন। পাকিস্তানে ভিক্ষাবৃত্তি একটি পেশাগত ব্যবসা, যেখানে অনেকেই জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কোনো পথ খুঁজছেন না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানে ‘ভিক্ষা মাফিয়া’ নামে একটি সংগঠিত চক্র কাজ করছে, যা শিশু পাচার ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এই চক্র দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণেও রয়েছে। প্রাচীন উপমহাদেশীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তীর্থস্থানগুলোতেও ভিক্ষাবৃত্তি প্রচলিত, তবে আজকের বাস্তবতায় এটি দেশের জন্য একটি বড়ো সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা।
আরও পড়ুনঃ RG KAR case : কলকাতা হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসায় বাধার মুখে তিলোত্তমার মা? উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ AIIMS-এ স্থানান্তর!
পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা সময় সময় এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একবার মন্তব্য করেছিলেন, বিদেশি দেশের কাছে পাকিস্তান যেন ‘টাকা ভিক্ষা চাইতে’ যাওয়ার দেশ মনে হচ্ছে। এই চিত্র বদলাতে না পারলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নতি কঠিন হবে। ভিক্ষাবৃত্তি থেকে আসে পাকিস্তানের অর্থনীতির এক অস্বস্তিকর নির্ভরশীলতা, যা দেশের ভবিষ্যৎ ভাবনায় বড় ধরনের প্রশ্ন তুলছে।





