মঙ্গলবার স্থানীয় সময় অনুসারে বিকেলের দিকে লেবাননের বেইরুটে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় এখনো অবধি প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন। এছাড়া প্রায় ৫,০০০ মানুষ আহতও হয়েছেন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এখন মর্মাহত গোটা বিশ্ব। সামান্য অসতর্কতা যে কত বড়ো বিপদ ডেকে আনতে পারে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বাইরুটের এই ঘটনা। জানা গেছে বাইরুটের বন্দর এলাকায় গত ছবছর ধরে প্রায় ২৭০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করা ছিল।
পর পর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরনে কেঁপে উঠছিল গোটা লেবানন। এমনকি দুসপ্তাহের জন্য বেইরুটে জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে বিমানবন্দরও।
এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে বিশ্বের সব রাষ্ট্রই। ভারতের চেন্নাই বিমানবন্দরের কাছেও এমন একটি গুদামের সন্ধান মিলেছে। যেখানে ৭৪০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিভিন্ন জায়গা থেকে বাজেয়াপ্ত করা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ওই গুদামে মজুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই গুদামকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করেছে।
তামিলনাড়ুর পিএমকে নেতা রামাদোস ইতিমধ্যেই ওই বিস্ফোরক সরানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসন যেন মজুত করা বিস্ফোরকগুলিকে সতর্কতা মেনে ওই স্থান থেকে সরিয়ে দেয়। যাতে কোনো অসতর্কতার বশে বেইরুটের মতো দ্বিতীয় সাংঘাতিক ঘটনা না ঘটে ভারতে।
চেন্নাই কাস্টমস অবশ্য মানুষকে এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা করতে বারণ করেছেন। তাঁরা খুবই সর্তকভাবে বিস্ফোরক পদার্থগুলি রেখেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া তাঁদের বক্তব্য হলো যে, ওই এলাকার নিকটবর্তী কোনো জনবসতি নেই।
তবে আদালতের দেওয়া নির্দেশ মেনে খুব তাড়াতাড়ি গুদামে মজুত ৭৪০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিক্রির জন্য অনলাইনে নিলামে তোলা হবে। তবে ততদিন সুরক্ষাবিধি মেনেই বিস্ফোরক পদার্থগুলি রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাইরুটের এই ঘটনা যেভাবে মানুষকে নাড়া দিয়েছে তাতে ওই গুদাম খালি না হওয়া অবধি মানুষের চিন্তা কমবে না।





