শহরের বুকেই চাঞ্চল্যকর এক নিখোঁজের ঘটনা। রাত নামতেই এক তরুণ-তরুণী উধাও! সঙ্গে ছিল কেবল একটি স্কুটি আর একটি মোবাইল ফোন, যা পরে উদ্ধার হয় খালের ধার থেকে। প্রশ্ন উঠছে—এ কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কোনো গভীর রহস্য?
ঘটনাটি ঘটেছে আনন্দপুর থানা এলাকার চিনা মন্দির সংলগ্ন খালের ধারে। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতের দিকে পঞ্চান্নগ্রামের বাসিন্দা রনিতা বৈদ্য (২৩) বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘদিনের বন্ধু রোহিত আগরওয়াল, যিনি পেশায় অ্যাপ পরিষেবা সংস্থার বাইক চালক। রনিতার পরিবার জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁর বাবা মেয়েকে একটি স্কুটি কিনে দেন এবং সেই থেকেই রোহিত তাঁকে চালানো শেখাচ্ছিলেন।
সেই রাতেই স্থানীয়রা লক্ষ্য করেন, দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণ পর আর কাউকে দেখা যায়নি। পড়ে ছিল কেবল রনিতার স্কুটি ও ফোন। আশঙ্কা তৈরি হয়, রোহিত হয়তো রনিতাকে খালে ফেলে দিয়ে পালিয়েছে। রাত বাড়তেই খবর পৌঁছায় থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ডাকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। ডুবুরি নামানো হয় খালে, শুরু হয় তল্লাশি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোঁজ চালিয়েও প্রথমে কিছুই উদ্ধার হয়নি।
পরিস্থিতি পাল্টে যায় মাঝরাতে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উদ্ধার হয় রোহিত আগরওয়ালের মৃতদেহ। এতে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে—তাহলে রোহিতকেই কি খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, নাকি দুর্ঘটনার কারণে তিনিও তলিয়ে গিয়েছিলেন? কিন্তু সবচেয়ে বড় রহস্য থেকে যায় রনিতার অবস্থান। এখনও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। ফলে নিখোঁজকাণ্ড আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Kurseong Death : ডাউহিলের হোম-স্টেতে রক্তা*ক্ত দেহ! ছাদ থেকে পড়ে মৃ*ত্যু নাকি এর পিছনে লুকিয়ে অন্য রহস্য?
এদিকে রনিতার পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়েকে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্কুটি চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দু’জনই খালে পড়ে যেতে পারেন। তবে স্থানীয়দের একাংশ স্পষ্টই জানাচ্ছেন, ঘটনার আগে বচসা ও হাতাহাতি হয়েছিল। তাই এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। এখনও নিখোঁজ রনিতা বৈদ্যের হদিশ মেলেনি।





