এমন নারকীয়তা প্রথম নয় এপ্রিলেও সামনে এসেছিল আরও এক হাতির মৃত্যু, তবে কি এই খুন বিচারাধীন নয়!

একটা দিন যেতে না যেতেই আবার নৃশংসতার দৃশ্য দেখা গেল কেরলে। দৃশ্যটি সম্প্রতির না হলেও দেখুন কিছুর মিল পান কিনা। লোকে বলে কেরল নাকি ঈশ্বরের আপন দেশ। একটা জায়গাকে সুন্দর করে তুলতে যা যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রয়োজন তা সবই অতি যত্ন করে বানিয়েছেন ভগবান। সমুদ্র, নদী, ব্যাকওয়াটার, গভীর জঙ্গল, অসামান্য ঝর্ণা কোনো কিছুতেই কার্পণ্য করেননি তিনি। শিক্ষার হারের দিক থেকে দেশের মধ্যে সেরা কেরল। অর্থনীতিতে থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা সংস্কৃতি এইসবের জন্যই এতদিন কেরালা সুপরিচিত ছিল। কিন্তু কালকের পর থেকে তার বিশেষণের তালিকায় আরো একটি শব্দ যোগ হল তা হল নৃশংসতা।

বাজি ভর্তি আনারস দিয়ে এক সন্তানসম্ভবা হাতির জীবন নিয়ে যে নৃশংসতা দেখালো কেরালা এটা কিন্তু প্রথমবার নয়। এর আগেও এপ্রিল মাসেই ঠিক এক তরুণী হাতিকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়। পর তার দেহ উদ্ধার করা হয় কোল্লাম জেলার জঙ্গল থেকে। ময়নাতদন্তে জানা যায়, কিছু একটা খেতে গিয়ে তার চোয়াল ভেঙে গিয়েছিল। এক বরিষ্ঠ বনবিভাগের আধিকর্তা জানিয়েছেন, তাকেও বাজিই খাওয়ানো হয়েছিল। মুমূর্ষু হাতিটিকে বন আধিকারিকরা উদ্ধার করেন পাথানাপুরমের জঙ্গলে একটি ঝর্ণার পাশ থেকে। এত দুর্বল ছিল, যে তার ওপর ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা যায়নি। তাকে ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সে আর মানুষকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ওভাবেই হেঁটে কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

বন আধিকারিক মোহন কৃষ্ণণ ২৭ মে সাইলেন্ট ভ্যালিতে মারা যাওয়া বুনো হাতিটির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার পর থেকেই গোটা দেশ ক্ষোভে ফেটে পরে। মানুষ বুঝতে পারছেন না, মানবিকতা কোথায় গিয়ে ঠেকলে মানুষের এ হেন দানব বৃত্তি জন্ম নেয়। এক ক্ষুধার্ত প্রাণীর বিশ্বাসের সুযোগ এ হেন অত্যাচার কি খুব প্রয়োজন? এপ্রিলের সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরো এক নারকীয় ঘটনা। এর কোনো সুরাহা নেই। একমাত্র ধ্বংসই পারে আবার নতুন কিছু সৃষ্টি করতে। করতে মানবতার জন্ম দিতে।

RELATED Articles

Leave a Comment