বিহারের রাজনীতি এমনিতেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক সমীকরণ, একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ—এসব যেন আরও তীব্র হয়েছে। এর মাঝেই হঠাৎই একটি সরকারিভাবে নেওয়া সিদ্ধান্ত ঘিরে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অন্দরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবীর সরকারি বাসভবন বদলের খবরটি সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা বাড়ছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দ থাকা ১০ সার্কুলার রোডের বাড়ির বদলে রাবড়ি দেবীকে নতুন ঠিকানা হিসেবে হার্ডিং রোডের ৩৯ নম্বর সরকারি কোয়ার্টার দেওয়া হচ্ছে। বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন ডিপার্টমেন্ট মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নোটিস জারি করেছে। সিদ্ধান্তটি সাধারণ প্রক্রিয়ার অংশ বলেই সরকারের ব্যাখ্যা। তবে বিরোধী শিবির সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়, বরং এতে তারা আরও নতুন প্রশ্ন তুলছে।
আরজেডি নেতা শক্তি সিং যাদবের কথায়, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে “অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো” রয়েছে। তিনি দাবি তুলেছেন, কোন নিয়মে রাবড়ি দেবীর বাড়ি বদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তা স্পষ্ট নয়। তাঁর মতে, রাজ্য প্রশাসনে বিজেপির প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র অধিকারী। এই বাড়ি বদলের নোটিস তাঁদের সেই অভিযোগকেই আরও প্রমাণিত করে বলেই বিরোধীদের দাবি।
রাবড়ি দেবীর রাজনৈতিক ভূমিকা ও ইতিহাসও এই আলোচনায় উঠে এসেছে। বিহারের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৯৭ সালে দায়িত্ব নেন, লালু প্রসাদ যাদবের ‘পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি’-র প্রেক্ষিতে। এরপর ২০০৫ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান। বর্তমানে তিনি বিধান পরিষদের বিরোধী দলনেতা। তাই তাঁর সরকারি বাসভবন পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ TMC – BJP : “বিজেপিকে ভোট দিলে বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভান্ডার!”— নন্দীগ্রামে তৃণমূল নেত্রীর পোস্টে তীব্র রাজনৈতিক তান্ডব!
এদিকে সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়ের পর রাজনৈতিক উত্তাপ এখনও থামেনি। ২৪৩ আসনের মধ্যে ২০২টি আসনে সাফল্য পাওয়ার পর থেকেই জোটে আত্মবিশ্বাস প্রবল। অন্যদিকে আরজেডি ও কংগ্রেসের হতাশাজনক ফলের পর বিরোধী শিবিরে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে রাবড়ি দেবীর ‘বাড়ি বদল’-এর সিদ্ধান্ত যেন নতুন করে তর্কের আগুন জ্বালিয়েছে। সরকারের দাবি—সবই নিয়ম মেনে হয়েছে; তবে বিরোধীরা যে এত সহজে বিষয়টি ছেড়ে দেবে না, তা স্পষ্ট।





