আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রাত পোহালেই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমি পুজো। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকবে গোটা বিশ্ব। নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে দেখানো হবে ভূমি পুজোর ঝলক। ইতিমধ্যেই অযোধ্যা সেজে উঠেছে নতুন রূপে। গোটা শহর জুড়ে দুটো রঙের আধিপত্য চোখে পড়ছে তা হল গেরুয়া এবং হলুদ। গোটা শহর জুড়ে আলোর মেলা। যেন অকাল দিওয়ালি নেমে এসেছে অযোধ্যার বুকে।
তবে আনন্দের সঙ্গে নিরাপত্তার দিকটিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। গোটা শহর মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার কড়া চাদরে। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও আরও চারজন ভিভিআইপি সদস্য এই ভূমিপুজোয় উপস্থিত থাকবেন। কীরকম ভাবে নেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতি? এক ঝলক দেখে নেওয়া যাক।
মূল পুজোর জায়গায় ৪০০ মিটার আগে থেকেই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। প্রতি মোড়ে মোড়ে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। কাউকে ভিডিও বা ছবি তুলতে দেওয়া হচ্ছে না।আজ বিকালেই রাম কি পেরি ঘাটে হবে আরতি। সুন্দর আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে ঘাট। প্রদীপ দেওয়া হবে সন্ধ্যায়।
কালকে মূল পুজো কিন্তু আজকে সকাল থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। হনুমান গড়িতে হয়েছে ‘নিশান’ পুজো। এই পুজোর গুরুত্ব হল বজরঙ্গবলির থেকে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি নেওয়া। সকাল থেকে শুরু হয়েছে অখণ্ড রামায়ণ পাঠ। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টা চলেছে এই পাঠ।
গোটা অযোধ্যা মেতে উঠেছে আনন্দে কারণ অযোধ্যাবাসীদের কাছে বিষয়টি রাজনীতির থেকে অনেক বেশি অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে। তাঁদের কাছে এটা একটা বড় উৎসব। সেখানে ভগবান শ্রী রামের সঙ্গে তাঁরা রাজনীতি জড়াতে কোনমতেই রাজি নয়। রাম জন্মভূমির মূল পুজোর জায়গা থেকে ৪০০ মিটার দূর পর্যন্ত যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সেখানেই বিভিন্ন ছোট বড় দোকান রয়েছে। সেই দোকানের দোকানদারিরা জানাচ্ছেন যে তারা অন্যরকমভাবে আবেগাপ্লুত। দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর অবশেষে অযোধ্যায় তৈরি হচ্ছে রাম মন্দির। তাদের কাছে এটা অন্যতম খুশির খবর কারণ রাম মন্দির তৈরি হলে মানুষ আসবে ফলে এলাকার অনেক উন্নতিও হবে। তাই রাম মন্দির ঘিরে অযোধ্যাবাসীদের অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা। গোটা অযোধ্যা সেজে উঠেছে নতুন রঙে, নতুন রূপে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি। এরপরই গোটা দেশ সাক্ষী থাকবে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।





