রাস্তায় বেরিয়ে পড়লে আমরা সকলেই একরকম ভরসা রাখি চালকের উপর। বিশেষ করে, দূরপাল্লার বাসে ওঠা মানেই একটা নিশ্চিন্ত যাত্রার আশা। কিন্তু যদি হঠাৎ সেই যাত্রাপথেই ঘটে এমন কিছু, যা পরিবারের জীবনের ছন্দ এক মুহূর্তে ওলটপালট করে দেয়? সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। ব্রেক কষার সঙ্গে সঙ্গেই এক শিশু ছিটকে পড়ে যায় বাসের জানলা দিয়ে! ঘটনাটি দেখে শিউরে উঠছেন নেটজনতা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কর্তারা পর্যন্ত।
জানা গিয়েছে, মুথিলিঙ্গপুরম এলাকার বাসিন্দা মদন কুমার তাঁর বোন ও বোনের দুই শিশুকে নিয়ে শ্রীভিল্লিপুথুর যাচ্ছিলেন এক বেসরকারি বাসে করে। ছোট ছেলেটি ছিল বোনের কোলে, আর বড়টি মদনের কোলে। দু’জনেই বসেছিলেন বাসের দরজার পাশের সিটে। বাসটি ছাড়ছিল মাদুরাই থেকে এবং গন্তব্য ছিল শ্রীভিল্লিপুথুর। কিন্তু মীনাক্ষীপুরম গ্রামের কাছাকাছি এসেই ঘটে যায় দুর্ঘটনাটি।
বাসটি একটি লাল ট্রাফিক সিগনাল দেখে হঠাৎই জোরে ব্রেক কষে চালক। এই আচমকা ঝাঁকুনির জেরে শিশুটিকে আঁকড়ে ধরে রাখা বোনের হাত থেকে ফসকে সে ছিটকে জানলার ফাঁক দিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। বাসে থাকা যাত্রীদের চিৎকারে গাড়ি থামান চালক। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে নামেন শিশুটির মা। রাস্তার ধারে দাঁড়ানো এক স্থানীয় বাসিন্দা পড়ে যাওয়া শিশুটিকে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করেন এবং মা-র হাতে তুলে দেন।
এই দুর্ঘটনার জেরে শুধু শিশুটিই নয়, তার মামা মদন কুমার এবং অন্য শিশুটিও আঘাত পান। জানা গিয়েছে, ব্রেক কষার সময় মদন কুমার সিট থেকে পড়ে গিয়ে মুখে চোট পান এবং কোলে থাকা শিশুটিও জখম হয়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান। বর্তমানে দু’টি শিশু ও তাদের মামা সুস্থ আছেন বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ “এটা কেরলবাসীর জন্য চূড়ান্ত অপমান!” — সুদীপ্ত সেনের ছবিকে জাতীয় স্বীকৃতি দিতেই বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন!
তামিলনাড়ুর এই ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল ভিডিও দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ু পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগের আধিকারিকরাও। তাঁরা জানিয়েছেন, এখন থেকে সমস্ত বাসে খোলা জানলা ও খোলা দরজা রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে দরজার পাশের সিটগুলো যাতে সুরক্ষিত থাকে তার দিকেও নজর দেওয়া হবে। বেসরকারি বাস সংস্থাগুলিকে এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেবে প্রশাসন।





