সন্তানের কষ্ট সহ্য করতে পারেন না কোনও বাবা-মা। যত কষ্টই হোক, সবকিছু এক মুহূর্তে ভুলে মেয়ের সুস্থতার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তারা। কিন্তু কখনও কখনও চেষ্টার পরও কিছুই করার থাকে না, কেবল অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখা ছাড়া। এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদে। যেখানে এক বাবা মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি, এমনকি মৃত্যুর পর মেয়ের দেহ বাড়ি নিয়ে যেতে পর্যন্ত পাননি কোনও শববাহী গাড়ি বা অ্যাম্বুল্যান্স। বাধ্য হয়ে টোটোয় করে মেয়ের নিথর দেহ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি।
এ দৃশ্য চোখে জল এনে দিয়েছে অনেকের। বাবার কোলে নিথর পড়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটি, আর সামনে বসে থাকা এক অসহায় বাবা! চারপাশে অনেকেই দাঁড়িয়ে, কিন্তু কেউ কিছু করতে পারছেন না। মেয়ের নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতালের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, অপেক্ষা করেছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাহায্যের জন্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের দেখা মেলেনি। সামাজিক মাধ্যমে এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিষেবার দুর্দশা নিয়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে ফিরোজাবাদ মেডিকেল কলেজ ও সরকারি ট্রমা সেন্টারে। বিজেপি কাউন্সিলর ধর্মপাল রাঠোরের একমাত্র মেয়ে খুশি বাড়িতে খেলতে গিয়ে পড়ে যায় এবং মাথায় গুরুতর চোট পায়। তড়িঘড়ি তাঁকে ফিরোজাবাদের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এরপরই আরও বড় সমস্যা তৈরি হয়। মেয়ের দেহ বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতালের কাছে একটি অ্যাম্বুল্যান্সের অনুরোধ জানান বাবা। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কোনও অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ কালবৈশাখীর প্রস্তুতি নিন! প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ধেয়ে আসছে, কোন জেলায় পড়বে সবথেকে ভয়ংকর প্রভাব?
উত্তর প্রদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সরকারি হাসপাতালে যদি কেউ মারা যান, তাহলে হাসপাতাল থেকে একটি সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ম যে কতটা উপেক্ষিত, তা ফের প্রমাণ হল এই ঘটনায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুখে কোনও মন্তব্য না করলেও, উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
এই ঘটনা সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলির অব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি একজন কাউন্সিলরের মেয়ে এভাবে উপেক্ষিত হন, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা? উত্তর প্রদেশ সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।





