গ্রীষ্মের দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে গোটা দক্ষিণবঙ্গ। চৈত্র মাসের শুরুতেই পারদ ঊর্ধ্বমুখী, শহর থেকে গ্রাম— সব জায়গায় রীতিমতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুপুরের চড়া রোদে বাইরে বের হওয়াই মুশকিল, ছাতা, সানগ্লাস, ঠাণ্ডা পানীয়— এসব ছাড়া এক কদমও চলা যাচ্ছে না। কলকাতার মতো শহরগুলিতে রাস্তার ধারে লেবুজল, শরবত, গ্লুকোজের দোকানে ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। অন্যদিকে, গ্রামে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে গরমে কাহিল হয়ে পড়ছেন।
শুধু গরমই নয়, বাতাসেও আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তি আরও দ্বিগুণ হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুরের মতো জায়গায় সন্ধ্যাতেও ঘামতে হচ্ছে মানুষকে। পাখা, এয়ার কন্ডিশনার চালিয়েও রেহাই নেই। কিন্তু এই অসহনীয় পরিস্থিতির মধ্যেই মিলেছে একটুখানি স্বস্তির খবর। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আসছে ঝড়-বৃষ্টি! অর্থাৎ, অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে, গরমের দাপট কিছুটা হলেও কমতে পারে দক্ষিণবঙ্গে।
বুধবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা থেকেই দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে আজ থেকেই শুরু হবে ঝড়-বৃষ্টি। হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হতে পারে, সঙ্গে চলবে দমকা হাওয়া। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলিতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘন্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
শুধু বৃহস্পতিবারই নয়, শুক্রবার (২১ মার্চ) থেকে দক্ষিণবঙ্গের আরও বড় অংশ জুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব মেদিনীপুর, কলকাতার মতো জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। এই সময় কালবৈশাখীর দাপট সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে। এই ঝড়-বৃষ্টির ফলে দিনের তাপমাত্রা ৩-৫ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে, যা কিছুটা স্বস্তি দেবে দক্ষিণবঙ্গের মানুষকে। তবে রাতের তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হবে না, ফলে রাতের গরম কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ শনির মহাপরিবর্তন! ৩ এপ্রিল পর্যন্ত এই তিন রাশির জন্য খুলে যাচ্ছে সাফল্যের দরজা!
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়া পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। শুক্রবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। দমকা হাওয়া বইতে পারে ঘন্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে।
সপ্তাহের শেষে উত্তরবঙ্গের তাপমাত্রা ৪-৫ ডিগ্রি পর্যন্ত কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাতের তাপমাত্রায় বিশেষ হেরফের হবে না, তাই রাতেও কিছুটা গরম অনুভূত হতে পারে। ফলে যারা একটু স্বস্তির আশায় ছিলেন, তাদের জন্য এই ঝড়-বৃষ্টি কিছুটা হলেও সুখবর আনতে পারে।





