রাজনীতির মঞ্চে উত্তেজনার ঢেউ নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন বিরোধী দলনেতার কনভয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে, তখন তা স্বাভাবিক ঘটনাও থাকে না। গত কয়েক বছর ধরে বাংলার রাজনৈতিক আবহে তীব্র সংঘর্ষ, পথ অবরোধ, স্লোগানের যুদ্ধ ও কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনা প্রায় নিয়মিত হয়ে উঠেছে। রাজনীতির এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে থাকছে দুই প্রধান শক্তি—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। এর মধ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি মানেই উত্তেজনার আশঙ্কা, বিশেষ করে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে। এমনই এক পরিস্থিতি তৈরি হল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে, যেখানে শুভেন্দুর গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক সংঘাত কখনও কখনও সংসদীয় ব্যবস্থার গণ্ডি পেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। রাজপথে ধুন্ধুমার, রাজনৈতিক স্লোগান, পুলিশের ব্যারিকেড—সব মিলিয়ে যেন টানটান উত্তেজনার চিত্র। বুধবার সন্ধ্যায় বারুইপুরের রাস্তায় এমনই এক দৃশ্য ধরা পড়ল, যেখানে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে বচসা, ধস্তাধস্তি, এমনকি হামলার অভিযোগ উঠল। শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালো পতাকা দেখানো, ইট-পাটকেল ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। তার জেরে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের প্রবল বিক্ষোভ ও কুশপুত্তলিকা দাহের ঘটনা ঘটল।
বুধবারের ঘটনার সূত্রপাত হয় তখন, যখন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যান। এলাকাটি বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র হওয়ায় রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শুভেন্দু অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টি করা হয়। তৃণমূল সমর্থকরা শিবানীপীঠ মোড়ে জড়ো হয়ে কালো পতাকা দেখান এবং ‘চোর, চোর’ স্লোগান তোলেন। শুভেন্দুর গাড়ি লক্ষ্য করে বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। এমনকি বোতলে করে লঙ্কার গুঁড়ো পর্যন্ত ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। যদিও শুভেন্দু শেষ পর্যন্ত রাসমাঠে সভা করতে সক্ষম হন।
আরও পড়ুনঃ সরকারি হাসপাতালের চরম অব্যবস্থা! মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে টোটোতে ফিরতে বাধ্য বিজেপি কাউন্সিলর!
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সরব হন বিজেপি বিধায়করা। অধিবেশন চলাকালীন তাঁরা ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন এবং স্পিকারের পদত্যাগের দাবি তোলেন। বিজেপির বিধায়করা অভিযোগ করেন, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কেন্দ্রের এই ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। এরপর তাঁরা ওয়াকআউট করে বিধানসভা চত্বরে বিমানের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। বিজেপির মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “স্পিকারের নিজের কেন্দ্রে বিরোধী দলনেতার গাড়িতে হামলা! এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে যে, স্পিকার দলদাস হয়ে গিয়েছেন!”
এই ঘটনার পর বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বারুইপুরের মানুষ শুভেন্দুকে বাধা দেবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। সম্ভবত বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে সভায় লোক হয়নি, তাই এই নাটক করা হচ্ছে।” অন্যদিকে, শুভেন্দু পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন দরকার! ২৭ তারিখ পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও করা হবে। তৃণমূলকে ভোটে জিতিয়ে বদলা নেওয়ার সুযোগ দেব না।” এই ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘর্ষ আরও এক ধাপ তীব্র হল, যা আগামী নির্বাচনের লড়াইকে আরও উত্তেজক করে তুলল।





