২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে নজরে রেখে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিতে চাইছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (J.P Nadda)। দেশের প্রতিটি প্রান্তে দলের সংগঠন মজবুত করতে, শাসকের ভাবমূর্তি আরও উন্নত করতে, দলীয় আদর্শ নিয়ে ক্যাডারদের মধ্যে স্বচ্ছতা বাড়াতে ভারত জুড়ে ১০০ দিনের যাত্রা শুরু করতে চলেছেন তিনি।
যাত্রার দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও মনে করা হচ্ছে এই কর্মসূচিতে বাংলা-সহ নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, ‘রাষ্ট্রীয় বিস্তৃত প্রবাস’ নামে ১০০ দিনের ওই যাত্রায় বিজেপি শাসিত রাজ্যের পাশাপাশি দখলে নেই, এমন রাজ্যেও যাবেন জেপি নাড্ডা।
সামনেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন আর তাই বিজেপি সূত্রের খবর, বাংলা থেকেই নাড্ডার এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশ ছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে সব রাজ্যেই দুই থেকে তিন দিন থাকবেন নাড্ডা। ১০০ দিনের সফরে দলীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। তাঁদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যে সম্ভাব্য জোটসঙ্গী খুঁজে বার করাও নাড্ডার কর্মসূচিতে থাকবে।
যে সব রাজ্যে বিজেপি শাসকের ভূমিকায় রয়েছে সেখানে বিজেপির ভাবমূর্তি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। উক্ত রাষ্ট্রীয় বিস্তৃত প্রবাস কর্মসূচিতে নাড্ডা যে সমস্ত রাজ্যে সফর করবেন সেগুলিকে চারটে ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কর্নাটক, বিহার, ত্রিপুরা-সহ বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিকে ‘এ’ বিভাগে রাখা হয়েছে। দিল্লি এবং রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব এবং ওড়িশার মতো রাজ্যে যেখানে বিজেপি ক্ষমতা দখল করতে পারেনি, সেগুলিকে ‘বি’-শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। লাক্ষাদ্বীপ, মেঘালয় এবং মিজোরামের মতো ছোট রাজ্যগুলি ‘সি’-ক্যাটেগরিতে ধরা হয়েছে।
কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, পুদুচেরি এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে যেখানে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন তেমন রাজ্যগুলিকে ‘ডি’ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশ ছাড়া ‘সি’ভুক্ত রাজ্যগুলিতে দু’দিন এবং ‘এ’ ও ‘বি’ শ্রেণিভুক্ত রাজ্যে তিন দিন করে থাকবেন নাড্ডা। ‘ডি’ শ্রেণিভুক্ত রাজ্যগুলিতে ক’দিন থাকবেন তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে এই ক্যাটাগরিতে থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে নাড্ডা বাংলাতেই সবথেকে বেশিদিন রাত্রিবাস করবেন বলেই জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশে আট দিন থাকার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি সভাপতির। সদ্য বিহারে আবার ক্ষমতা দখল করেছে এনডিএ। ভালে ফল করেছে বিজেপিও। বিহারের ফল নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নাড্ডার। বিহারের সাফল্যের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নাড্ডার বাড়িতে গিয়ে পুষ্পস্তবক পর্যন্ত দিয়ে এসেছেন। তবে সেই সাফল্যে সন্তুষ্ট না থেকে আরও বড় লক্ষ্যে ঝাঁপাতে চান বিজেপি সভাপতি। বিজেপি সূত্রের খবর, দেশে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই কর্মসূচি শুরু করবেন নাড্ডা। তাই তার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার