আজ দুপুর ৩টে নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এই সফর নিয়ে বিজেপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ২০১৮ সালে এইচ ডি কুমারস্বামীর শপথ গ্রহণের কথা মনে করান তারা।
সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনিয়া গান্ধী, মায়াবতী-সহ নানান বাম নেতারা এক হয়ে একতার বার্তা দেন। এই মঞ্চে সেদিন দেখা মিলেছিল তেজস্বী যাদব, শরদ পাওয়ার, অখিলেশ যাদবেরও।
আরও পড়ুন- ত্রিপুরার পদ্মবাগানে ঘাসফুল চাষ করতে উদ্যোগী I-PAC, কিন্তু শুরুতেই বাধা, করা হল হোটেল বন্দি
এই বিষয়ে এক বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা বলেন, “সোনিয়া-মায়াবতীর আলিঙ্গন আর মায়াবতীকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পেশ করার পর সেই একতার কী হল? ওই একতা তো ছয় মাসও টিকেছিল না। সেই সময় মায়াবতী নিজেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান আর ছত্তিসগড়ে নির্বাচনে লড়েছিলেন”।
কিন্তু সেসব এখন অতীত। এখন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে নাম উঠে আসছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একুশের নির্বাচনে বড় জয়ের পর এবার মোদী বিরোধী দলগুলিকে একজোট করার চেষ্টা করছেন তিনি। তিনি যে মোদীর বিরুদ্ধে লড়ার ক্ষমতা রাখেন, তা তিনি আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন। একদিকে বাংলায় মমতা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই চালালেন, আর জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি ফের সেই কংগ্রেসের সঙ্গেই জোটে সামিল হতে উদ্যত। আর কংগ্রেসও তৃণমূলের সঙ্গে জোট করার জন্য প্রস্তুত হয়েই রয়েছে।
কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠে, তাহলে ২০১৮ সালে বিজেপির বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া জাতীয় জোটের তাহলে কী হবে? এক বিজেপি নেতার মতে, “কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা রাহুল গান্ধী ছাড়া আর কাউকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ মানতে তৈরি না। তাঁরা এও চায়না যে, কংগ্রেসের রাশ গান্ধী পরিবার ছাড়া অন্য কারোর হাতে যাক। আবার অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা গোটা দেশে নেই। বিশেষ করে হিন্দি ভাষী রাজ্যে তো সেভাবে নেই-ই। তাহলে কী কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশ বিহারের মতো নিজের বদলে অন্য দলকে দায়িত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নেবে”?
অন্য এক বিজেপির নেতা জানান, নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে জোট বেঁধে বিরোধীদের এই লড়াই ২০২৪ সালের আগে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে পরীক্ষা হবে। এদিকে, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি আর কংগ্রেস সকলেই বলেছে যে তারা নির্বাচনে একাই লড়বে।
আরও পড়ুন- বিজেপিকে ঠেকানোর জন্য তৃণমূলের সঙ্গেও হাত মেলাতে আপত্তি নেই বামেদের, স্পষ্ট করলেন বিমান বসু
এই বিষয়ে উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি নেতা বলেন, “বিরোধীরা গোটা দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার জন্য তোড়জোড় করছে, আর তাঁর আগে উত্তর প্রদেশে নিজেদের একজোট করতে অসমর্থ হচ্ছে। বিরোধীরা যে জোট নিয়ে ধ্বন্দে রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না”।





