জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তৃণমূলের সঙ্গেও হাত মেলাতে রাজি বামেরা। গতকাল, রবিবার বিকেলে পূর্ব মেদিনিপুরী একটি সভায় একথাই স্বীকার করে নিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
তবে এদিকে তৃণমূল বামেদের এই অবস্থাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে একেবারেই রাজি নয়। তবে তৃণমূলের স্পষ্ট জবাব, বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে যদি বামেরা লড়তে চায়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ অনুসরণ করেই তাদের এগোতে হবে।
আরও পড়ুন- ‘এতদিন কী রাজ্য সরকার ঘুমোচ্ছিল?’ বন্যাত্রাণে ব্যাপক দুর্নীতির জেরে রাজ্যকে চরম ভর্ৎসনা আদালতের
গতকাল, রবিবার প্রয়াত সিপিএম নেতা নির্মল জানার স্মরণ সভায় যোগ দেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিমান বসু। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীও। তিনি সংবাদমাধ্যমে মুখ না খুললেও বিমানবাবুর মন্তব্য রাজ্য রাজনীতির আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
এদিনের সভায় বিমান বসু বলেন, “সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী বা কচ্ছ থেকে কোহিমা পর্যন্ত কোনও আন্দোলন, সংগ্রামের প্রশ্ন দেখা দিলে বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তির সঙ্গে আমরা একজোট হয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। এটা আগেও একাধিকবার হয়েছে, বিজেপি ছাড়া যে কোনও দলের সঙ্গেই আমরা কাজ করতে প্রস্তুত”।
এখানে স্পষ্ট করে তৃণমূলের নাম না নিলেও বিমানবাবু বুঝিয়ে দেন যে বিজেপিকে হারাতে বা তাদের প্যাঁচে ফেলতে তৃণমূলের সঙ্গেও তাঁরা হাত মেলাতে রাজি।
এবার এখানেই প্রশ্ন ওঠে যে সিপিএম রাজি থাকলেও, তৃণমূল কী তাদের সঙ্গে হাত মেলাতে রাজি হবে? যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আর এখন ভোটের পর বামেরা শূন্য হয়ে যাওয়ায়, হাত মেলানো ছাড়া অন্য কোনও বিকল্পও নেই তাদের কাছে, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুন- পেগাসাস হ্যাক কাণ্ড নিয়ে তৎপর রাজ্য, গঠন তদন্ত কমিশন, থাকছেন দুই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি
এই বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ওঁরা আগে ঠিক করে নিন ওঁরা কী করতে চান। ওই দলটার মতি স্থির নেই। ভোটের সময় তো বিজেমূল বিজেমূল করে নিজের প্রথমে লোকসভায় ও পরে বিধানসভায় শূন্য হয়ে গেল। বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে গোটা দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু সিপিএম ১৯৮৮ সালে যে ভুলটা কংগ্রেস বিরোধিতা করতে গিয়ে করেছিল, একই ভুলটা ২০১৯-এও করেছে। নিজেদের পুরো ভোটটাই বিজেপির দিকে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাই আগে ঠিক করে নিক কী করবে। তবে যদি লড়তে চায়, সেক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তির হয়ে লড়তে হবে। বিজেপির বি টিম হয়ে লড়া যাবে না”।





