AFSPA : হিন্দুদের রক্ষা করতে বাংলা জুড়ে আফস্পা চান বিজেপি সাংসদ! কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রসঙ্গ টেনে তীব্র আক্রমণ তৃণমূলকে!

বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে যখন মানুষ পবিত্র রমজান ও চৈত্র সংক্রান্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই একাধিক জেলার আকাশে-মাটিতে ছড়িয়ে পড়েছে অস্থিরতা। মুর্শিদাবাদ থেকে মালদহ, নদিয়া থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা—শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এই ভূমিতেই হঠাৎ যেন জমে উঠেছে উত্তেজনার ঘনঘটা। হিন্দু-মুসলিম সৌভ্রাতৃত্ব যেখানে যুগের পর যুগ ধরে গর্ব ছিল বাংলার, সেখানে সম্প্রতি কিছু ঘটনা মানুষকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করছে—এই সম্পর্ক কি আর আগের মতো আছে?

ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হলেও তার গতিপ্রকৃতি যা রূপ নিয়েছে, তা যেন সাধারণ মানুষের রাত্রির ঘুম কেড়ে নিয়েছে। কেউ ভয়ে বাড়ি ছাড়ছেন, কেউ দোকানের ঝাঁপ নামিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। আগুনে পুড়েছে গাড়ি, দোকান, এমনকি মানুষের ঘরবাড়িও। মৃত তিনজন, আহত বহু। পুলিশের গাড়ি জ্বালানো, রাস্তা অবরোধ, এমনকি হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। অনেকেই বলছেন, এটা আর প্রতিবাদ নয়, বরং পরিকল্পিত সহিংসতা। এই পরিস্থিতিতে ভয়, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা যেন রাজ্যবাসীর ছায়াসঙ্গী হয়ে উঠেছে।

এই অস্থির পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়ে নজিরবিহীন দাবি তুললেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তাঁর অভিযোগ, শুধু মুর্শিদাবাদেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ৮৬টি বাড়ি-দোকানে লুটপাট হয়েছে, খুন হয়েছেন ২ জন, এমনকি তাঁদের চাষের জমিতেও হামলা হয়েছে। মালদহ, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও একই ছবি। বিজেপি সাংসদের মতে, এ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং রাজ্যে ‘তোষণের রাজনীতি’র জেরে সংখ্যালঘু তাণ্ডবের শিকার হচ্ছেন হিন্দুরা। আর এই পরিস্থিতি নাকি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ১৯৯০ সালের কাশ্মীরি পণ্ডিতদের গণপলায়নের ইতিহাস।

জ্যোতির্ময় মাহাতোর চিঠিতে স্পষ্ট দাবি—এই মুহূর্তে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে আফস্পা (AFSPA) জারি করা হোক। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রাজ্যের পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেই। হাই কোর্টের হস্তক্ষেপে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছে ঠিকই, তবে তা যথেষ্ট নয়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চাই সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান। কারণ, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন চরম সঙ্কটের মুখে।

আরও পড়ুনঃ Bangaon News : ঘুম ভাঙতেই আগুনের দাপট! বনগাঁ বাজারে একের পর এক দোকান ছাই, চোখের সামনে শেষ সবকিছু!

আফস্পা (AFSPA) বা ‘Armed Forces Special Powers Act’ মূলত সশস্ত্র বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে, যাতে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনও অনুমতি বা জবাবদিহি ছাড়াই ব্যবস্থা নিতে পারে। এই আইন ১৯৫৮ সালে উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গি উপদ্রব দমনের জন্য চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে জম্মু ও কাশ্মীরেও এই আইন প্রয়োগ করা হয়। তবে এটি গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাই বাংলার মাটিতে এই আইন চালুর দাবি যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও রাজ্য রাজনীতির গতি যে পাল্টাতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles