পহেলা বৈশাখের আগে শহরের প্রতিটি বাজার যেন আলোর রোশনাই আর মানুষের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠেছিল। বনগাঁর বাটা মোড়ের পাশের অস্থায়ী দোকানগুলিতেও দিনভর ছিল ভিড়, দোকানিরাও প্রস্তুত হচ্ছিলেন বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিক্রির মরসুমের জন্য। নতুন শাঁখা, কসমেটিক্স, ব্যাগ, জুতো—সবকিছুতেই জমছিল বেচাকেনা। স্বপ্ন দেখছিলেন ব্যবসায়ীরা, ভালো বিক্রির মাধ্যমে পরিবারকে নতুন জামাকাপড়, ভালো খাবার উপহার দেওয়ার।

রাত গভীর হলে যেমন বাজার এলাকা নিস্তব্ধ হয়, তেমনই ছিল শনিবার রাতও। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে ভোররাতের দিকে ভেসে আসে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ, ধোঁয়ার কুণ্ডলী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলাকার মানুষ দেখেন, আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করছে একের পর এক দোকান। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, হুড়োহুড়ি করে খবর দেওয়া হয় দমকল, পুরসভা ও থানায়। বনগাঁর প্রাণকেন্দ্রে এভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ঘুম ভেঙে যায় পুরো এলাকার।


ঘণ্টার পর ঘণ্টা দমকলের লড়াই, আগুন এতটাই ভয়াবহ যে অন্য থানা থেকেও আসে ইঞ্জিন
খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে আসে বনগাঁর দমকলের একটি ইঞ্জিন, পরে আরও দুটি ইঞ্জিন ও পুরসভার দুটি জলের গাড়ি যোগ দেয় আগুন নেভানোর কাজে। আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, গোবরডাঙ্গা থেকেও এক ইঞ্জিনকে আনা হয়। অন্ধকারে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীরা চালান এক কঠিন লড়াই। ভোর তিনটে থেকে সকাল ছ’টা পর্যন্ত তারা নিরলস চেষ্টা চালালেও ততক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি দোকান। তখনও পুরো আগুন নিভেনি, জ্বলছে দাহ্য বস্তু, ফাটছে কাচ, গলে যাচ্ছে ছাউনি।

প্রশাসনের তৎপরতা, পুরপ্রধান ও কাউন্সিলরের আশ্বাসে সাময়িক সান্ত্বনা
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অভিজিৎ কাপুরিয়া ও বনগাঁ থানার আইসি সহ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। পুরপ্রধান আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে পুরসভা। তবে বৈশাখের আগে এই ধাক্কায় অনেকে আবার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েছেন।

আরও পড়ুনঃ Murshidabad Unrest : হিজলতলায় ফের হামলা, ভাঙচুর BSF গাড়িতে! কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ নজরে উত্তপ্ত সামশেরগঞ্জ
ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য জানা যায় সকাল ছয়টা নাগাদ—এই ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মোট ৯টি দোকান। ব্যাগ, শাঁখা, জুতো, কসমেটিক্স সহ বহু দামের সামগ্রী এক নিমেষে ভস্ম হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী, যাঁদের জীবিকা ছিল এই দোকান ঘিরেই। বৈশাখের আগেই জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলেন তাঁরা। প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে, তবে দোকানদারদের মুখে এখন শুধুই একটাই কথা—”সব শেষ হয়ে গেল, এবার কীভাবে চলবে সংসার?”





