গতকাল, শনিবার ছিল মহালয়া অর্থাৎ দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে এদিন। পিতৃপক্ষের শেষদিন অর্থাৎ মহালয়ার আগের দিন পুরীতে জগন্নাথদেবের মহাস্নান রীতি পালন করা হয়। এদিন দুপুরে প্রভুকে বিশেষ ভোগ নিবেদন করে মধ্যাহ্নধূপার নিয়ম রয়েছে। এমন এক শুভদিনে ভক্তদের ঢল নামে পুরীর মন্দিরে। কিন্তু এই দিনেই ঘটে গেল এক অঘটন।
এদিন পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরের গর্ভগৃহে দেখা গেল চাপ চাপ রক্ত। গর্ভগৃহের মধ্যেই ঘটল রক্তপাতের ঘটনা। এমন এক ঘটনার জেরে বন্ধ হয়ে যায় বিগ্রহ দর্শন। দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করতে হয় ভক্তদের। পুরীর মন্দিরে এমন ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে এমন রক্ত পড়ে থাকার ঘটনা কী কোনও অমঙ্গলের ইঙ্গিত? তা নিয়ে আশঙ্কায় ভক্তরা।
কিন্তু কোথা থেকে এল এই রক্ত?
গত শুক্রবার মহাস্নানের পর মধ্যাহ্নধূপার রীতির পরই এক অঘটন ঘটে মন্দিরে। এদিন বিশেষ ভোগ হিসেবে জগন্নাথদেবকে কেক নিবেদন করা হয়। জানা গিয়েছে, এই সময় গর্ভগৃহের এক কর্মী ভগের বাক্স থেকে একটি কেকের টুকরো তোলেন। তা নিয়েই এক সেবায়তের সঙ্গে বচসা শুরু হয় ওই কর্মীর। ধীরে ধীরে সেই বচসা হাতাহাতিতে পরিণত হয়। এর জেরে ওই কর্মী আঘাত পান ও রক্তপাত হয় তাঁর। তাঁর সেই চাপ চাপ রক্তই পড়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে।
এমন ঘটনার জেরে বন্ধ হয়ে মন্দিরের বিগ্রহ দর্শন। গর্ভগৃহে পড়ে থাকা রক্ত ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়। এরপর বিশেষ রীতি মেনে শুদ্ধ করা হয় গর্ভগৃহ। এরপরই ফের বিগ্রহ দর্শনের অনুমতি দেওয়া হয় ভক্তদের। এই ঘটনার জেরে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেন ভক্তরা,
জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুজনকে পাকড়াও করে মন্দিরের সিংহদুয়ারের পুলিশ। তাদের স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই ঘটনায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে খবর। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে স্বীকার করা হয় যে দেড় ঘণ্টা বিগ্রহ দর্শন বন্ধ ছিল। তবে গর্ভগৃহে রক্তপাত সম্পর্কে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি তাদের তরফে।
উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবরও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের গর্ভগৃহের মধ্যে মন্দিরের এক সেবায়েত ও এক পুরোহিতের মধ্যে বচসা-হাতাহাতি হয়।। পরস্পর পরস্পরকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত দুজনের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় (খুনের চেষ্টা) মামলা দায়ের করা হয়।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার