বাংলায় তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এবার তৃণমূলের লক্ষ্য দিল্লির গদি। এই কারণে বাংলা ছাড়াও অন্যান্য রাজ্যে সংগঠন বাড়াতে তৎপর ঘাসফুল শিবির। এই যাত্রা শুরু হয়েছে ত্রিপুরাকে দিয়েই। বিজেপি শাসিত রাজ্যে এবার জোড়াফুল চাষ করতে উঠেপড়ে লেগেছে তৃণমূল।
তবে তাদের এই যাত্রাপথ যে মোটেই মসৃণ হবে না, তা তো বলাই বাহুল্য। আর ইতিমধ্যেই এর আঁচ পেয়েছে তৃণমূল শিবির। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সে রাজ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পরবর্তী বিধানসভাতেই সে রাজ্যে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করাটা বেশ চাপের। তবে হাল ছাড়তে রাজী নয় মমতার দল।
ত্রিপুরায় ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য কী এবার তাহলে চিরশত্রু বামেদের সঙ্গে জোট বাঁধবে তৃণমূল? এমন নানান জল্পনা কিছুদিন ধরেই ভেসী আসছে রাজনৈতিক মহলে। ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও জোট নিয়ে একটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
আবার অন্যদিকে, সিপিএমও ইঙ্গিত দিয়েই রেখেছে যে জাতীয় স্তরে বিজেপিকে হারানোর জন্য প্রয়োজনে তৃণমূলের সঙ্গে জোট বাঁধতেও তারা রাজী। এবার এ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূল নেতা ব্রাত্য বসু।
এ বিষয়ে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, “বাংলার বামেদের সঙ্গে ত্রিপুরার বামেদের অনেক পার্থক্য রয়েছে। তবে পার্থক্য থাকলেও বামেদের সঙ্গে জোট হবে না। কিন্তু কেউ যদি আসতে চায়, তাহলে তাঁদের স্বাগত জানানো হবে”। তৃণমূল নেতার এই কথায় বেশ স্পষ্ট যে তৃণমূল ত্রিপুরায় বামেদের সঙ্গে কোনও জোটে যাচ্ছে না। তবে সিপিএমের কোনও নেতা যদি চান তাহলে তৃণমূলে যোগ দিয়ে লড়াই চালাতে পারেন। সেক্ষেত্রে তৃণমূলের তরফে তাঁকে বা তাদের সর্বদাই স্বাগত জানানো হবে।
আরও পড়ুন- অভিনব প্রতিবাদ কংগ্রেস নেতার, বানান শেখার জন্য দিলীপ ঘোষকে পাঠানো হল বর্ণপরিচয়
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, “বাংলার বামেদের সঙ্গে ত্রিপুরার বামেদের চারিত্রিকগত পার্থক্য রয়েছে। ত্রিপুরার বামেরা বুঝতে পেরেছে যে, লড়াই একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলই করতে পারে। আমাদের সঙ্গে কেউ যুক্ত হতে চাইলে আসুক। আমরা কোনও জোটের আহ্বান করি না। বামেদের সঙ্গে আমাদের জোট হবে না। কিন্তু কেউ আসতে চাইলে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে”।






