ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে সুভাষচন্দ্র বোস (Netaji Subhas Chandra Bose) এক অবিস্মরণীয় নাম। নিজের অসীম সাহসিকতা, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বগুণে তিনি শুধু দেশের মাটিতেই নয়, সারা বিশ্বে স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর ‘তুম मुझे খুন দো, ম্যায় তুমহে আজ়াদি দুঙ্গা’ স্লোগান আজও অনুপ্রেরণা জাগায় কোটি কোটি ভারতীয়র হৃদয়ে। তিনি ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি সব ধর্ম, বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রিত করে স্বাধীনতার লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। নেতাজির জন্মদিন কেবল স্মরণীয় নয়, বরং ভারতীয়দের জন্য এক গর্বের দিন।
নেতাজির ১২৯তম জন্মদিন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার কালচিনির সভা থেকে তাঁকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজির জীবনের অনুপ্রেরণামূলক দিকগুলি তুলে ধরে তিনি বলেন, “নেতাজিই আমাদের শিখিয়েছিলেন কিভাবে সব ধর্মকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হয়।” তিনি আরও বলেন, “নেতাজি যিনি এত লড়াই করলেন, সবার কথা ভাবলেন, তিনি কোথায় হারিয়ে গেলেন? আর খুঁজেই পেলাম না। ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায় যে, ওনার সঙ্গে আসলে কী হয়েছিল।” এই কথা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে চর্চা শুরু করেন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের অভিযোগ করেন যে নেতাজি একটি চক্রান্তের শিকার। রাজ্যের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নেতাজি সংক্রান্ত ৬৪টি ফাইল প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের কাছে থাকা ফাইলগুলি এখনও কেন প্রকাশ্যে আনা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, কেন্দ্রের কাছে এই রহস্যের সমাধান করার ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু তা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কেন্দ্র ক্ষমতায় আসার আগে ফাইল প্রকাশের কথা বলেছিল। কিন্তু এখন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে গেছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মনে করিয়ে দেন যে, নেতাজির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘জয় হিন্দ বাহিনী’ গঠন এবং নেতাজির জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে নানা স্মৃতি চিহ্ন সংরক্ষণ। তিনি বলেন, “নেতাজির প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানাতে হলে আমাদের তাঁর আদর্শে চলতে হবে এবং সেই সত্যকে সামনে আনতে হবে, যা এতদিন ধরে চাপা দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে বাংলাদেশ? দুই দেশের গোপন চুক্তি কি ডেকে আনছে ভারতের বিপদ?
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নেতাজি কেবল একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। অথচ আজও তাঁর অন্তর্ধান রহস্য অমীমাংসিত। রাজ্য ৬৪টি ফাইল প্রকাশ করেছে, কেন্দ্র কেন আরও তথ্য সামনে আনছে না? দেশবাসীর এই অধিকার রয়েছে যে তারা সত্যটা জানুক।” মমতার এই বক্তব্যে সভায় উপস্থিত মানুষের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের সমাধানে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে এই চর্চা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।





