গণনার আগেই সাদা থান পাঠিয়ে বার্তা, বিরোধীদের চুপ করাতেই কি তৃণমূলের নতুন কৌশল বসিরহাটে?

বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জে ভোটের আবহে ফের সামনে এল ‘সাদা থান’ ঘিরে আতঙ্কের ছবি। গণনার আগেই এক বিজেপি পোলিং এজেন্টের বাড়ির সামনে সাদা থান ভর্তি প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যাওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে, ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি, পাল্টা ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি তৃণমূলের।

ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভা এলাকার কালিতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম কালিতলায়। অভিযোগ, বিজেপি কর্মী তথা পোলিং এজেন্ট কঙ্কন বৈদ্যর বাড়ির সামনে একটি প্যাকেট ফেলে রেখে যায় কেউ। শনিবার সকালে তাঁর মা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে প্যাকেটটি দেখতে পান। খুলে দেখা যায়, তার ভিতরে রাখা রয়েছে সাদা থান যা সাধারণত মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য।

কঙ্কন বৈদ্য এবারের নির্বাচনে ২৪৩ নম্বর বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এই কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। দলের দাবি, গণনার আগে কর্মীদের মানসিকভাবে চাপে রাখতেই এ ধরনের ‘বার্তা’ দেওয়া হচ্ছে। কঙ্কন বৈদ্য নিজেও জানিয়েছেন, “এটা স্পষ্টভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা। আমাদের চুপ করিয়ে দেওয়ার জন্যই এই কাজ করা হচ্ছে।”

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক অতীতের একাধিক ঘটনা। কিছুদিন আগেই একই এলাকায় আরও দুই বিজেপি কর্মীর বাড়িতে সাদা থান, জবা ফুল, সিঁদুর ও তুলো সহ প্যাকেট ফেলে রাখা হয়েছিল। এমনকি একটি চিরকুটে লেখা ছিল, “এবার বলো হরি হরি বোল করে দেব” যা সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে বিজেপি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার একই ধরনের ঘটনা সামনে আসায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ভয় দেখানোর রাজনীতি করছে। ভোট মিটে গেলেও ফল ঘোষণার আগে কর্মীদের ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। খুনের হুমকি থেকে শুরু করে মানসিক হেনস্থার অভিযোগও উঠেছে। কঙ্কন বৈদ্যর পরিবারের দাবি, তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা এই ঘটনার পর ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। হিঙ্গলগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকার এই ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে সহানুভূতি আদায়ের জন্য এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। এগুলো সম্পূর্ণভাবে বানানো।”

এদিকে, পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। ভোটের দিন ছিল ২৯ তারিখ, আর তার পর থেকেই একের পর এক এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভোট পরবর্তী সময়ে এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ই-ফার্মেসির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধর্মঘট! ২০ মে, বন্ধ সব ওষুধের দোকান! উদ্বেগ বাড়ছে শহরজুড়ে!

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কে বা কারা এই প্যাকেট রেখে গেল, তার পেছনে কোনও সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য আছে কি না সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সত্যিই এটি ভয় দেখানোর কৌশল, নাকি রাজনৈতিক নাটক তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। গণনার আগে এই ধরনের ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে ভোটের পরেও কি নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখা যাচ্ছে? নাকি ভয় আর সন্দেহই এখন রাজনীতির নতুন ভাষা হয়ে উঠছে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর