ভারতে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক একটি মামলা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একজন সাধারণ কনস্টেবলকে লকআপে আটকে রেখে অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধেই। এই ঘটনার রেশ গিয়ে পৌঁছেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে, যেখানে বিচারপতিরা কেবল ক্ষোভই প্রকাশ করেননি, ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছেন। এর পরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই নেমেছে সরেজমিন তদন্তে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ প্রশাসনকে কনস্টেবল খুরশিদ আহমেদ চৌহানকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সিবিআইকে এই মামলায় এফআইআর নথিভুক্ত করার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয়, ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ মেনে গত ২১ জুলাইয়ের পর বুধবার সিবিআই গ্রেফতার করেছে এক ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, এক ইন্সপেক্টর-সহ মোট ছয় পুলিশকর্মীকে। গ্রেফতার হওয়া পুলিশ অফিসারদের মধ্যে রয়েছেন ডিএসপি আইজাজ আহমেদ নাইকু এবং কুপওয়ারার যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রের (জেআইসি) পাঁচ অফিসার— সাব-ইন্সপেক্টর রিয়াজ আহমেদ, জাহাঙ্গীর আহমেদ, ইমতিয়াজ আহমেদ, মহম্মদ ইউনিস এবং শাকির আহমেদ। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দুজন বেসামরিক ব্যক্তিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি সিবিআই।
এই মামলার সূত্রপাত খুরশিদ চৌহানের স্ত্রী রুবিনা আখতারের করা অভিযোগ থেকে। তাঁর বক্তব্য, মাদক মামলায় তলব করে নিয়ে গিয়ে খুরশিদকে ছয় দিন অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছিল। সেই সময়ে তাঁকে লোহার রড, লাঠি দিয়ে প্রহার করা হয়, এমনকী বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ আরও ভয়াবহ— খুরশিদের যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয় এবং তাঁর মলদ্বারে লাল লঙ্কার গুঁড়োও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। আদালতে এই সমস্ত তথ্য প্রকাশিত হতেই গোটা ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ Weather: টানা তিন দিন দুর্যোগের আশঙ্কা কলকাতায়, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি একাধিক জেলায়
সিবিআই ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, হত্যার চেষ্টা, অবৈধ আটক এবং বিপজ্জনক অস্ত্র দ্বারা আঘাতের মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে। সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইকে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য এক মাস এবং তদন্ত শেষ করতে তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এখন গোটা দেশ নজর রাখছে, পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের এই নৃশংস ঘটনার পর সত্যিই কি কঠোর শাস্তি মিলবে? নাকি আবারও দোষীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে? উত্তর সময়ই দেবে।





