উলাটপুরানই বলা যেতে পারে। একদিকে যখন কলকাতাতে নানান দুর্নীতির মামলা সামলাতে প্রায় হিমশিম খাওয়ার জোগাড় সিবিআইয়ের। অন্যদিকে তখন এক বিজেপি শাসিত রাজ্য গোয়াতে কার্যত ছুটি কাটাচ্ছেন সিবিআই আধিকারিকরা। কারণ সেখানে তো তাদের তেমন কাজই নেই বললে চলে। গত ৫ বছরে কোনও দুর্নীতিই ঘটে নি সে রাজ্যে। হাতে গোনা কয়েকটা ছোটোখাটো মামলার তদন্ত ছাড়া গোয়াতে বিশেষ আর কোনও মামলা নেই সিবিআইয়ের কাছে।
সত্যিই ভারতবর্ষ এক বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে ধর্ম-বর্ণের সঙ্গে বৈচিত্র্য রয়েছে প্রশাসনিক স্তরেও। সম্প্রতি খবর মিলেছে যে কলকাতাতে নতুন গারদ ও অফিসের সন্ধান চালাচ্ছে সিবিআই। এখানে মামলার চাপ এতটাই বেশি ও অভিযুক্তের সংখ্যা যেন দিনদিন বেড়ে চলেছে, তাতে সকলকে গারদে ঠাঁই দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। আর অন্যদিকে গোয়াতে সিবিআই আধিকারিকরা একরকম ছুটির মেজাজেই থাকছেন বলা যায়। তেমন কোনও মাম্লাই নেই তাদের হাতে।
সিবিআই সূত্রে খবর অনুযায়ী, আপাতত গোয়াতে তাদের ৫ জন আধিকারিক রয়েছেন। তাদের হাতে ৪-৫টি মামলা রয়েছে। সিবিআই-এর সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিস আশীষ কুমার জানান, “বিগত ৫ বছরে গোয়াতে কোনও মামলাই সিবিআই এর হাতে আসে নি। এটা থেকে পরিস্কার যে গোয়াতে কোনও রকম দুর্নীতি হয়নি”।
তিনি আরও জানান, “দুর্নীতি হচ্ছে এমন কোনও ফোনই দফতরে আসেনি। সাধারণ মানুষ বা সংবাদমাধ্যম, কেউই কোনও রকম অভিযোগ দায়ের করেনি। গোয়াতে কোনও দুর্নীতি হচ্ছে না। আর আমাদের এখানে কোনও দরকারও নেই”।
সিবিআই-এর এসপি আশীষ কুমার এর আগে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, “বিগত ৫ বছরে আমাদের হাতে মাত্র ৩ টি মামলা এসেছে। এর মধ্যে ২টি মামলা কানাড়া ব্যাঙ্কের। সাধারণ ঋণ খেলাপ করার মামলা সেগুলি। আর একটি মামলা হিসাবের বাইরের অতিরিক্ত সম্পত্তির। বিগত ৪ বছরে ঘুষ নেওয়ার কোনও মামলাই আমাদের কাছে আসেনি”। বলে রাখি, ২০১৮ সালে শেষবার ঘুষ নেওয়ার একটি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ উঠেছিল গোয়াতে।





