দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬৫। ধীরে ধীরে অবস্থা শোচনীয় হচ্ছে ভারতে। আগামী ১৫ই এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন থাকবে গোটা দেশ। জরুরি পরিষেবা ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া কিছুই খোলা থাকবে না দেশে। দেশের গ্রামীণ এলাকায় এখনও করোনা আক্রান্তের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। কিন্তু যদি সন্ধান পাওয়া যায়, তার চিকিৎসা কী করে হবে? শহরে আনতে আনতে তাঁর মৃত্যু ঘটতে পারে। এই ব্যাপারে অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
গ্রামীণ এলাকায় যেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নেই, সেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ালে প্রয়োজনে রেল কোচকে আইসোলেশন ওয়ার্ড বানিয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে রেল মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গোটা দেশে আরও দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা আছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর সেই কারণেই গতকাল সব রাজ্যের মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে ক্যাবিনেট সচিব বলেছেন, আরও কিছু হাসপাতালকে কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য তৈরি রাখতে।
কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, গোটা দেশেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এখনও সুদৃঢ় নয়। এই সমস্যা মেটাতে কয়েক সপ্তাহ আগেই একপ্রস্থ আলোচনা হয়েছিল। মঙ্গলবার সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে। যেহেতু প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ রয়েছে, তাই প্রয়োজন মতো সেখানে কোচ নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কর্তাদের মতে, সরকার চেষ্টা করছে সংক্রমণ যাতে আর না ছড়ায় তা সুনিশ্চিত করতে। গোটা দেশে লক ডাউন বলবৎ করে সামাজিক মেলামেশা সেই কারণেই কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সত্যিই যদি এই সংক্রমণ এ দেশেও মহামারীর আকার নেয়, তখন বর্তমান স্বাস্থ্য পরিকাঠামো দিয়ে সামলানো দুষ্কর হবে। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
কোচিতে স্থিত একটি সংস্থা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে সবিস্তার-এ একটি প্ল্যান দিয়েছে। দেশে এখন ১২,৬১৭টি দূরপাল্লার ট্রেন রয়েছে। যেগুলিতে ২৩ থেকে ৩০টি কোচ রয়েছে। ওই সংস্থার হিসাবে প্রতিটি ট্রেনকে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট মোবাইল হাসপাতালে রূপান্তরিত করে ফেলা সম্ভব। দেশে সাড়ে সাত হাজার প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে কাউকে আইসোলেশনে রাখতে হলে সরাসরি ওই ট্রেন হাসপাতালেই অ্যাডমিট করা যেতে পারে। এইসকল ট্রেনে প্যান্ট্রি কারও রয়েছে। তাই খাবার সরবরাহ করতেও
অসুবিধা হবে না।





