দল তো ছেড়েই দিয়েছেন, তাহলে বাসভবন ছাড়তে আপত্তি কীসের? এই নীতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র। একুশের নির্বাচনের ফলাফলের প্রকাশের পরই তৃণমূলে ফিরে যান মুকুল রায়। আর এরপরই অভিযোগ ওঠে যে কেন্দ্র সরকার নাকি তাঁর মাথার ছাদ কেড়ে নিতে উদ্যত। নয়াদিল্লির ১৮১ সাউথ অ্যাভিনিউয়ের ঠিকানা থেকে মুকুল রায়কে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। আর এই বিষয় নিয়েই চর্চা তুঙ্গে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি থাকাকালীনই তৃণমূলে ফিরে যান মুকুল রায়। এরপরই নয়াদিল্লিতে ১৮১ সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাসভবনটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য মুকুলকে নোটিশ পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন- ‘ফের বিজেপির টিকিতেই জিতব’, মুকুলের এমন মন্তব্যের কারণ কী? তৃণমূল নেতার মনের কথা জানালেন দিলীপ
জানা গিয়েছে, বাসভবন ছাড়ার জন্য মুকুলকে প্রথম নোটিশ পাঠানো হয়েছিল গত ১৯শে জুলাই ও দ্বিতীয় নোটিশটি পাঠানো হয় ২৬শে জুলাই। এই বিষয়ে মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছিলেন যে কেন্দ্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করতে তাঁকে বাড়িছাড়া করছে।
এরপর এই নিয়ে তৃণমূলের দুই সাংসদ আবেদন জানিয়েছিলেন ঞ্জাতে মুকুল রায়কে ওই বাসভবনে থাকতে দেওয়া হয়। বাড়িটি ভাড়া দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এতে রাজী হয়নি। তৃণমূলের রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক সুখেন্দুশেখর রায় এই বিষয়ে বলেন, “প্রথমে দোলা সেন এবং পরে আমি তিনমূর্তি ভবনের কাছে ওই বাড়িটি মুকুল রায়ের নামে ভাড়ার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু রাজ্যসভার সতিবালয় জানিয়ে দিয়েছে, হবে না”।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মুকুল রায় ওই বাসভবন ছাড়তে চাইছেন না। এই কারণে প্রথমে সাংসদ দোলা সেন রাজ্যসভার হাউস কমিটিতে আবেদন জানান যাতে অতিথি হিসেবে মুকুল রায়কে ওই বাসভবনে থাকতে দেওয়া হয়। কিন্তু বসেই আবেদন খারিজ করে দেয় কেন্দ্র।
এরপর তৃণমূলের রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক সুখেন্দুশেখর রায়ও আবেদন জানান যাতে বাসভবনটি ভাড়া দেওয়া হয়, কিন্তু সেই আবেদনও খারিজ করে দেয় কেন্দ্র। এরপরই সুখেন্দুবাবুর প্রশ্ন, “মুকুল রায় কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিজেপিতে ছিলেন। তখন সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। কেন্দ্রপ কোনও আপত্তি করেনি। তাহলে এখন মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসতেই কেন আবেদন খারিজ হচ্ছে”?
আরও পড়ুন- নবান্নের নির্দেশে রাতারাতি উত্তরবঙ্গে বদলি করা হল শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ ৪ পুলিশ আধিকারিককে
প্রসঙ্গত, মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার পরই নয়াদিল্লির ওই বাসভবন চেহের দেওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে তাঁকে। তৃণমূলের দুই সাংসদের আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র। অতএব, মুকুল রায়কে সেই বাড়িটি ছাড়তেই হবে। সরকারের পক্ষে মুকুল রায়কে এবার নোটিশ দিয়ে অবিলম্বে সেই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।






