কিছুদিন আগেই কৃষ্ণনগরে গিয়ে উপনির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তৃণমূল নেতা মুকুল রায় বলেছিলেন যে উপনির্বাচনে তৃণমূল পর্যুদস্ত হবে। পরে অবশ্য জানা যায় যে তিনি নাকি ভুলবশত এমন কথা বলে ফেলেছিলেন। কিন্তু গতকাল বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে মুকুল রায় যে কথা বললেন, সেটাও কী ভুলবশত?
এমন নানান প্রশ্ন এখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরে ঘুরছে। এবার এই প্রশ্নের জল্পনাকে আরও বেশি উস্কে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মুকুল রায় সম্পর্কে তিনি যা বললেন, তাতে বিতর্ক আরও বেশি বাড়ল বৈ কমল না।
গতকাল, শুক্রবার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির বৈঠক সেরে বেরোনোর সময় মুকুল রায় মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় যে উপনির্বাচনে তিনি যদি দাঁড়ান, তাহলে তিনি জিতবেন কী না। এই প্রশ্নের উত্তরে মুকুলের জবাব, “আবার বিপুল ভোটে জিতব। তবে বিজেপির টিকিটে দাঁড়াতে হবে। তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ালে কী হবে, সেটা মানুষ ঠিক করবে”।
আরও পড়ুন- নবান্নের নির্দেশে রাতারাতি উত্তরবঙ্গে বদলি করা হল শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ ৪ পুলিশ আধিকারিককে
তাঁর এই মন্তব্যের ব্যাখ্যাও তিনি অবশ্য দিয়েছেন। বর্ষীয়ান এই তৃণমূল নেতার কথায়, তিনি বিজেপি দল হিসেবে কথা বলছেন। নাহলে তিনি সম্পূর্ণভাবেই কিন্তু এখন তৃণমূলে রয়েছেন। তিনি এমন ব্যাখ্যা দিলেও তিনি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বিন্দুমাত্র কমেনি। অনেকেরই প্রশ্ন যে মুকুল রায় যদি তৃণমূলের থাকবেন পুরোপুরিভাবে, তাহলে তাঁর মুখে বারবার বিজেপির নাম উঠে আসে কেন?
এই প্রশ্নের জল্পনায় ঘি ঢাললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “উনি মনের কথাটা বলে দিয়েছেন। বাধ্য হয়েই ওই দলে গিয়েছেন। ওঁর যে বাধ্যবাধকতা সেটা আমরাও বুঝি। কিন্তু উনি বিজেপিই আছেন এখনও”।
এরপর পিএসির প্রসঙ্গ তুলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি জানান, “পিএসি নিয়ে সরকার যে ধরনের ছেলেখেলা করেছে, আমরা তার বিরোধিতা করেছি, বয়কটও করেছি। পিএসির যে প্রথম বৈঠক হল, তাতে মুকুলবাবুই নেই। তা হলে এই ধরনের নাটক কী দরকার ছিল”।
তবে মুকুল প্রসঙ্গ নিয়ে তৃণমূলের তরফে খুব বেশি কিছু বলা হয়নি। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের সংক্ষিপ্ত জবাব, “মুকুল রায়ের কথা যদি বিজেপিকে বুঝতে হয়, তাহলে দিনক্ষণ দেখতে হবে। তৃণমূল আপাতত এই সব নিয়ে কিছু ভাবছে না”।





