আজকের দিনটিকে দেশবাসী রাফাল যুদ্ধবিমানের শুভ সূচনার দিন হিসেবে মনে রাখবে। চার বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬’র চুক্তির পর আজ বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সুদূর ফ্রান্স থেকে এসে ভারতের মাটিতে পদার্পণ করল রাফাল যুদ্ধবিমান। ফরাসি এই ফাইটার জেটটি এখন ভারতের সুরক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে। চীন এবং পাকিস্তানের মতো দেশকে এখন একসাথে উত্তর দিতে প্রস্তুত ভারত।
আজ এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান জানান রাফালের ধারে কাছে চীনের কোনো যুদ্ধবিমানও নেই। এই কথাগুলি বলার পিছনে কি যুক্তি রয়েছে, দেখে নিন;
প্রথমত, রাফাল বিমানগুলিতে রয়েছে ‘কোল্ড স্টার্ট’ প্রযুক্তি। অর্থাৎ লেহ লাদাখের মতো উচ্চতায় এবং অত ঠান্ডার জায়গাতেও এই বিমানের ইঞ্জিন কাজ করতে পারবে। অন্যদিকে চীনের বিমানগুলো পাহাড়ের উঁচু জায়গা থেকে কাজ করতে পারে না।
দ্বিতীয়ত, রাফালে রয়েছে ‘মেটিওর’ এবং ‘স্কাল্প’ এর মতো মিসাইল। এরপর হ্যামার মিসাইলও এর সাথে যোগ করা হবে। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুদ্ধবিমানে ব্যবহৃত একটি উন্নততর ক্ষেপণাস্ত্র হলো মেটিওর। অন্যদিকে স্কাল্প হল এমন একটি ক্ষেপণাস্ত্র যা ডগফাইটের সময় নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া এই দলে যুক্ত হতে চলেছে হ্যামার মিসাইল যা আণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম।
এই সবকটি মিসাইলই প্রায় ১৫০ কিমি দূরত্ব পর্যন্ত যে কোনো লক্ষ্যকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। এই মারণাস্ত্র ভারতে আসার পর এবার ভারত লালফৌজের মোকাবিলায় আগের থেকে বেশি সক্ষম। এমনকি সংঘাতের পরিস্থিতি এলে যাতে বিমানগুলিকে কাজে লাগাতে পারে ভারত, তাই পুরোপুরি প্রস্তুত করেই রাফালগুলি পাঠানো হচ্ছে দেশে।
আজ এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন এয়ার চিফ মার্শাল ধানোয়া বলেন, চীনে তৈরি অত্যাধুনিক পঞ্চম জেনারেশন J-20 যুদ্ধবিমানও রাফালের সামনে চুনোপুঁটি। পূর্ব লাদাখের সীমান্তবর্তী এলাকায় এবার চীন আক্রমণ চালালে সেই যুদ্ধের পরিণতি কিন্তু ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। তিনি আরও বলেন, বিমানবাহিনী যদি প্রতিপক্ষের সেনাকে ভেঙে এগিয়ে যেতে পারে তাহলে হোতানে যে ৭০টি এবং লাসায় যে ২৬টি বিমান মোতায়েন করেছে চীনের সেনা, তাঁকেও ধ্বংস করে ফেলতে পারে এই রাফাল।
চীনের J-20 আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলির মোকাবিলা যে খুবই সহজ হয়ে যাবে রাফালের সাহায্যে তা প্রাক্তন বায়ু প্রধানের কথায় স্পষ্ট। ধানোয়ার চীনের বিমানগুলির দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, চীনের যুদ্ধবিমান যদি এতই উন্নত হত, তবে বালাকোটে পাকিস্তান চীনের বিমান ছেড়ে মার্কিন F-16 বিমান ব্যবহার করল কেন? চীনের সাথে হাত মেলালেও চীনের বদলে সুইডেনের রাডার ও তুরস্কের টার্গেট পড ব্যবহার করে পাকিস্তান, দাবি তোলেন তিনি।





