মহাগঠবন্ধন টেকেনি লড়াইয়ের মাঠে কিন্তু আড়াই দশক পর বিহারে অপ্রত্যাশিত ভালো ফল বামেদের

একসময় প্রায় সারা দেশে রাজ করা সর্বভারতীয় দল সিপিএম আজ প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে। কমরেডদের ধ্বনি আজ আর সেভাবে শ্রুতিগোচর হয় না। দেশ জুড়ে প্রায় বেশীরভাগ জায়গাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে সিপিএম। বাংলাতেও একসময় রমরমা বামেদের দল আজ নিশ্চুপ। কোথায় সেই লাল ঝাণ্ডা আর কোথায়ই বা সেই দলীয় কার্যালয়। সবই প্রায় এখন অতীত। কিন্তু ঠিক এই সময়েই দাঁড়িয়ে বিহারের বিধানসভা ভোটে বেশ ভালো ফল করেছে বামেরা। গত আড়াই দশকেও বিহারে বামেদের এমন উত্থান চোখে পড়েনি।

এ বছর বিহার বিধানসভা নির্বাচনীতে আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মহাগঠবন্ধন তৈরি করে ভোটের মাঠে নেমেছিল সিপিএম। একা তেজস্বী যাদবের কাঁধের উপর ভর করে বাকিরা ভেবেছিলেন হয়ত বৈতরণী পার হবেন। বুথ ফেরত সমীক্ষাও বলেছিল , এ বছর বিহার মসনদে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসবেন তেজস্বী যাদবই। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ফের একবার বুথ ফেরত পরীক্ষাকে ভুল প্রমাণিত করে জনগণ। নির্বাচনের এই লড়াইয়ে সকলকে পিছনে ফেলে বেশ ভালো আসন দখল করে জিতের মুখ দেখে এনডিএ জোট। এর মধ্যে বিজেপি আসন দখল করে সবচেয়ে বেশী।

কিন্তু মহাজোট হেরে গেলেও ১৬টি আসন জিতে মোটের উপর ভালো ফলাফল করে সিপিএম। বামেদের বিহারে এই ফলাফলকে যথেষ্ট ইতিবাচক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক দলের একাংশ। এমনকি, সীতারাম ইয়েচুরি নিজে বলেছেন, বিহারে সিপিএম ভালো ফল করেছে। সেখানে তাদের স্ট্রাইক রেট ৮০ শতাংশ বলেও দাবী করেছেন তিনি।

অতীতের তথ্য যাচাই করে দেখা গিয়েছে যে, বিহারে সিপিএম শেষ ভালো ফল করেছিল ১৯৯৫ সালে। অবিভক্ত বিহারে সেই বছর লালুপ্রসাদের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েছিল বামেরা। এরপরই বামেদের আলো ক্রমশ কমজোর হতে থাকে ও একসময় একেবারেই ঢিমেতালে চলতে থাকে। ২০০৫ সালে বিহারে সিপিএম দুটি আসন পায় ও ২০১০ সালে সেই সংখ্যা এসে দাঁড়ায় একটিতে। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে এই বছর বিহার বিধানসভায় বামেরা যে এতটা ঘুরে দাঁড়াবে তা কারোর ভাবনারও অতীত।

RELATED Articles