এমনিই কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতির অন্দরে যা পরিস্থিতি, তাতে হাওয়া বেশ গরম। একের পর এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতারা যে নিজেদের দলকে নিয়ে বেশ অসন্তুষ্ট, তা ঘটে যাওয়া কিছু কার্যকলাপে প্রমাণিত। দলের অন্দরেই যদি মিল না থাকে, নিজেদের মধ্যে বিবাদের কারণে যদি অশান্তি চরমে ওঠে, তাহলে বিরোধী দল তো সুযোগ নেবেই।
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে দলের মধ্যে জল্পনার শেষ নেই। দলের কোনও অনুষ্ঠান ও মন্ত্রীসভাতে তো তিনি অংশ নিচ্ছিলেনই না, এর উপর গতকাল নন্দীগ্রাম দিবস উৎসবে উপস্থিত থেকে তিনি স্পষ্ট কোনও নাম না নিয়েই তৃণমূলকে একের পর তীর বিঁধতে থাকেন। এমনকি, তার বক্তৃতাকে তিনি একবারও দলনেত্রীর নাম পর্যন্ত নেন নি। তার বক্তব্য ছিল, ভোটের আগেই সবার নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়ে, কিন্তু ভোটে জিতে গেলে আর নন্দীগ্রামের দিকে কেউ ফিরে তাকায় না। তিনি নন্দীগ্রামে নতুন নন, ২০০৩ সাল থেকে তিনি নন্দীগ্রামে আসেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করে তবেই তিনি দলকে জিতিয়েছেন, সেই লড়াই কারোর একার নয়, স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের লড়াই। এরপর তিনি বলেন যে নন্দীগ্রামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে নারাজ, রাজনীতির মাঠেই লড়াই হবে। তবে শুভেন্দু দল ছেড়ে বিজেপিতেই যোগ দেবেন নাকি নিজে দল গড়বেন এ বিষয়ে সঠিক কিছু জানা যায়নি।
এরই মধ্যে নিজেদের দলে শুভেন্দুকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, “মুষল পর্ব চলছে। এই মুষল পর্বের পর কি হবে, সেটা তো ভবিষ্যৎ বলবে। কালীঘাট প্রাইভেট লিমিটেডে যদি কেউ কাজ করেন, তার সম্মান থাকে না। সম্মান বিকিয়েই কাজ করতে হয়”। তিনি এও বলেন যে এবার শুভেন্দুকেই ঠিক করতে হবে যে তিনি দলনেত্রীর গৃহভৃত্য থাকবেন নাকি সত্যিই মানুষের সেবা করবেন।
অন্যদিকে, সায়ন্তনবাবুর এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি বলেন, “সায়ন্তনবাবু আমদের দলকে ভাঙার জন্য এসব করছেন। আমাদের বিভিন্ন নেতা, এমপিকে লোভ দেখাচ্ছেন। প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের দলকে ভাঙতে চাইছেন, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হবে না। তিরিশ বছর পর দেখা হবে”।
প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুবাবুর সভার পর অন্য এক সভা করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি শুভেন্দুকে পরোক্ষভাবে ‘মীরজাফর’ বলে তীর বেঁধেন। এরই সভা, পাল্টা সভা নিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। শুভেন্দুবাবুর এরপরের পদক্ষেপ কী হতে চলেছে বা তিনি আদৌ দলকে ইস্তফা জানাবেন কী না, সেদিকে এখন সকলের লক্ষ্য।





