গতবছর এই সময়ই ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিধ্বস্ত হয়েছিল ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং আংশিকভাবে বাংলাদেশ। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় পশ্চিমবঙ্গ। আর এবার কাছাকাছি একই সময়ে ফের আছড়ে পড়তে চলেছে আরও একটি ঘূর্ণিঝড়। নাম তউকতে।
প্রাপ্ত সূত্র মারফত খবর আজ অর্থাৎ শনিবার ভোর থেকেই কেরলের কোচির উপকূল থেকে শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে এই ঘূর্ণিঝড়। দিল্লির মৌসম ভবন জানিয়েছে, আদ রাতে এটি আরও তীব্র ঘূর্ণিঝড় ঝড়ের আকার নেবে। মৌসম ভবন সূত্রে খবর, “১৬-১৯ মে পর্যন্ত এটি খুব মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ের আকার নেবে। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৫০-১৬০ কিলোমিটার। তীব্র ওই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৭৫ কিলোমটার পর্যন্ত পৌঁছোতে পারে।” আশা করা হচ্ছে আগামী ১৮ই মে মঙ্গলবার সকালে গুজরাতের উপকূলে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘তউকতে’ l
এমনিতেই বর্তমানে করোনা বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছে দেশ। এরই মধ্যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় সেই পরিস্থিতিকে আরও সঙ্কটজনক করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা। গুজরাটেও প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। দিশাহীন হয়ে পড়েছে রাজ্য সরকার। ওই পরিস্থিতিতে ফের সংকট বাড়িয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় তউকতে।
ইতিমধ্যে গুজরাতের উপকূলের জেলাগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে৷ রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গুজরাতের উপকূলের দিকে এগোবে ঘূর্ণিঝড়। এর প্রভাব পড়বে লাক্ষাদ্বীপ, কেরল, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়ার উপকূলবর্তী এলাকায়৷ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে।
প্রসঙ্গত ইতিমধ্যেই, ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলা করতে নেমে পড়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যে ৫৩ টি দলকে নামানো হয়েছে। এরমধ্যে ২৪ টি দল বিপর্যয়ের আগে থেকেই পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে কাজ শুরু করে দিয়েছে। এছাড়াও ২৯টি দল পাঁচটি রাজ্যের কেরল, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রের ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। রাজ্য সরকারকে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।





