ভারতে এখন কান পাতলেই হাহাকার। চারিদিকে মৃত্যু ছাড়া কিছু নেই। ভয়, আতঙ্ক, কালোবাজারি, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনায় জর্জরিত দেশ। দৈনিক সংক্রমণে সব দেশের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে ভারত। একটা সময় দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ পেরিয়ে গিয়েছিল।
তবে এই বিস্তর মন খারাপের মধ্যে এবার আশার আলো দেখাচ্ছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়। সেই দেশের গবেষকরা দাবি করেছেন এবার ভারতে করোনার গ্রাফ নিম্নমুখী হবে। কেমব্রিজ জাজ বিজনেস স্কুল এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইকনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের যৌথ গবেষণা জানাচ্ছে, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ এখন সর্বোচ্চ চূড়ায় রয়েছে। তবে অবশ্য আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ধীরে ধীরে এই গ্রাফ নিম্নমুখী হবে। এই একই কথা বলেছিলেন কানপুর আইআইটির গবেষকরাও।
আরও পড়ুন- করোনা নিয়ে নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের! এবার সমস্ত হাসপাতালেই ‘র্যাট’ পদ্ধতিতে হবে করোনা পরীক্ষা
কেমব্রিজের গবেষণা বলছে, সার্বিকভাবে গ্রাফ নিম্নমুখী হলেও বেশ কিছু রাজ্যে আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য অসম, হিমাচলপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং ত্রিপুরা। জানা গিয়েছে, কেমব্রিজের এই গবেষণায় সহায়ক হয়েছে ভারত সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরামর্শদাতাদের তৈরি রিপোর্ট। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে এই মুহূর্তে ভাইরাসের যে স্ট্রেন সক্রিয় রয়েছে, তা আগের স্ট্রেনের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি ক্ষতিকারক। তবে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে এর প্রভাব কিছুটা কমবে। যদিও মৃত্যুর পরিসংখ্যান থাকবে চার হাজারের আশেপাশেই।
আরও পড়ুন- ফের মানবিক সোনু! করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে ফ্রান্স থেকে অক্সিজেন প্লান্ট আনছেন অভিনেতা
যদিও এই নিম্নমুখী হওয়ায় সাময়িক বলে মনে করছেন দেশের বহু গবেষক। তাঁদের মতে এই সাময়িক বিরতির পরই আসতে পারে তৃতীয় ঢেউ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য একটু আশার আলো দেখিয়ে অল্প মাত্রায় হলেও নিম্নমুখী হয়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪২১ জন। একদিনে দেশে মৃত্যু হয়েছে ৪২০৫ জনের। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড মুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৮ জন। যা আক্রান্তের সংখ্যাকে ছাপিয়ে গিয়েছে।





