ফের উত্তরপ্রদেশে সাক্ষী থাকল এক নারকীয় গণধর্ষণের ঘটনায়। শুধু ধর্ষণই নয়। ধর্ষণের সময়ের ভিডিও ক্যামেরাবন্দি সেই ভিডিওই দাম দিয়ে গ্রামবাসীদের বেচল ধর্ষকেরা। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ না জানালেও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানাজানি হতে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই দলিত নির্যাতিতা মহিলা। ইতিমধ্যেই ধর্ষকদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বদায়ুতে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর মাসে বছর তিরিশের এক গৃহবধূকে মীরাটের কাছে একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে পাঁচ যুবক মিলে ধর্ষণ করে ওই মহিলাকে। গৃহবধূর উপর নির্যাতন চালানোর সময় সেই দৃশ্য তখন টুকরো টুকরো করে ক্যামেরাবন্দি করে রাখে ধর্ষকেরা। এরপর মহিলাকে ভয় দেখানো হয় যে যদি সে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলে, তাহলে সেই ভিডিও তারা ভাইরাল করে দেবে। নির্যাতিতা মহিলা সমাজের কাছে পরিবারের সম্মান নষ্ট হবে, এই ভেবে এতদিন চুপ করে ছিলেন।
কিন্তু গত শনিবার ওই গৃহবধূ বুঝতে পারেন যে গ্রামের মানুষের মোবাইলে সেই ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর উপায় না দেখে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে এই ধর্ষণের এক একটি ভিডিও অভিযুক্তরা গ্রামবাসীদের ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেছে। মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এও জানা গিয়েছে যে ধর্ষকদের মধ্যে দু’জন নাবালক। তাদের বয়স ১৫-১৭-এর মধ্যে। পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চারজনকে দেখা গেলেও একজনকে দেখা যায়নি। তার বিরুদ্ধে আইটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এও জানা গিয়েছে যে, যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা চারমাসের পুরনো।
উল্লেখ্য, নির্যাতিতা ওই দলিত গৃহবধূ পরিচারিকার কাজ করেন। তাঁর স্বামী হাতে টানা গাড়ি চালান। পরিবারের সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়েই তিনি এতদিন কোনও অভিযোগ জানাননি বলে জানা গিয়েছে।





