বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে জিতে ফের একবার ক্ষমতায় এসেছে এনডিএ। মোদী ম্যাজিকের জন্যই যে তাদের এই সফলতা, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিজেপি একাই বেশীরভাগ আসনে জয়ী হয়েছে এনডিএ জোটের মধ্যে। এরপর যে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে ফের একবার নীতিশ কুমারই বসতে চলেছে, তা নিশ্চিত। এমনকি নির্বাচনের আগেও বিজেপির তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে এনডিএ জোট ক্ষমতায় এলে নীতিশই ফের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু উপমুখ্যমন্ত্রীর আসনে কে বসবেন, তা নিয়ে ধন্ধ দেখা দিয়েছে। শোনা গেছে, সুশীল কুমার মোদীর পরিবর্তে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠান হতে পারে বিহারের বিধান পরিষদের সদস্য কামেশ্বর চৌপল-এর।
এই মুহূর্তে বিহার বিজেপির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত মুখ হলেন সুশীল কুমার মোদী। কিন্তু স্থানীয় রাজনীতি ও সমীকরণের ভিত্তিতে কামেশ্বর চৌপলই যে এই পদলাভ করার যোগ্য, এও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে দলের অন্দরে। তার প্রধান কারণ ১৯৮৯ সালে অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রথম ইট ইনিই পুঁতেছিলেন। চৌপল রাম মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গেও যুক্ত। তাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করলে হিন্দুদের সমর্থন লাভ করার ক্ষেত্রে পথ আরও প্রশস্ত হবে। তার উপর চৌপল নিজে দলিত। এই মুহূর্তে দলে একজন গ্রহণযোগ্য দলিত নেতার আবশ্যিকতা রয়েছে। চিরাগ পাসওয়ানরা দল ছাড়ার পর সেই স্থান খালিই পরে রয়েছে। চৌপল সেই অভাব ভালভাবেই পূর্ণ করতে পারবেন বলে আশাবাদী বিজেপি দল।
আগামী রবিবার দুপুরে বৈঠকে এনডিএ বিধায়করা স্থির করবেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। এদিনই আবার এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে বিজেপির বিধায়ক দলের বৈঠক রয়েছে। রবিবারই নীতিশ কুমারকে ফের একবার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসানো হবে ও উপমুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন, তাও এই বৈঠকেই ঠিক হয়ে যাবে। এর কারণে ইতিমধ্যেই রামেশ্বর চৌপলকে দিল্লি থেকে পাটনায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে যে, এনডিএ তাঁবুতে কোনও অশান্তি কাজ করছে। এনডিএ-এর ছোট সঙ্গী জিতন রাম মাঝি। তিনি একসময় জেডিইউয়ে নীতীশের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি সাফ জানিয়েছেন যে নীতিশের ক্যাবিনেটে মন্ত্রিত্বের প্রস্তাব দেওয়া হলে সেই প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করবেন না। কিন্তু, তাঁর দল হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চা যে এনডিএতেই থাকবে, সেটাও নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন জিতন রাম মাঝি।





