দেশজুড়ে সিএএ র বিরোধিতা অনেকদিন ধরেই করে চলেছেন দেশবাসী। আর তার মধ্যে সব থেকে বেশি সরগরম যে অংশ সেটি হলো দিল্লি। সম্প্রতি সিএএ বিরোধিতা আগুন জ্বালিয়ে দেয়, অনাথ করে দেয় কত শিশুকে। এরপর টনক নড়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে। এক এক করে অবিজেপি রাজ্যগুলিতে পাশ হচ্ছে সিএএ বিরোধী প্রস্তাব । কেরল ধাঁচে ধাপে ধাপে বিধানসভায় পাশ করা হয় সিএএ বিরোধী প্রস্তাব। আরও একধাপ এগিয়ে একাধিক অবিজেপি রাজ্য বিধানসভায় পাশ করে এনআরসি ও এনপিআর বিরোধী প্রস্তাব। সেই ধারা অব্যাহত রেখেই এবার এনআরসি ও এনপিআর বিরোধী প্রস্তাব পাশ করা হল দিল্লি বিধানসভায়।
শুক্রবার দিল্লি বিধানসভায় একদিনের বিশেষ অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এনপিআর ও এনআরসি নিয়ে। সেখানেই কেন্দ্রকে এই নির্দেশ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, ‘আমি, আমার স্ত্রী এবং আমার ক্যাবিনেটের কারও জন্ম সার্টিফিকেট নেই। তাহলে আমাদের কি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে?’ পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেন্দ্রের কোনও মন্ত্রী কি তাদের জন্মের প্রমাণপত্র দেখাতে পারবেন?
দিল্লি বিধানসভা অধিবেশনে বিধায়কদের মধ্যে কার কার জন্ম সার্টিফিকেট আছে জানার জন্য হাত তুলতে বলেন তিনি। সেখানে দেখা যায় ৭০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৯ জন হাত তোলেন। এখানেই যদি চিত্র এমন হয় তবে সারাদেশের কি অবস্থা হবে। দারিদ্রের মধ্যে দিন কাটানো মানুষগুলো কিকরে তাদের জন্মের প্রমান দেখাতে পারবেন? এরপরই সরব হয়ে কেজরিওয়াল বলেন, এই হাউসের ৬১ জন সদস্যের জন্ম সার্টিফিকেট নেই। তাহলে এদের কি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে?দীর্ঘ আলোচনার পরই দিল্লি বিধানসভায় পাশ করা হয় এনপিআর ও এনআরসি বিরোধী প্রস্তাব। সিএএ বিরোধীদের একটা বড় জয় এনে দিল এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। কেন্দ্রের অধীন হয়েও কেন্দ্রের বিলের বিরোধিতা করার সাহস দেখালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী।





