মধ্যপ্রদেশে আস্থাভোট নিয়ে নাটক হয়েই চলেছে। আজ বুধবার, সুপ্রিম কোর্টে আস্থাভোট নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা। অন্যদিকে আজ সকালে বেঙ্গালুরুর যে হোটেলে বিদ্রোহী বিধায়করা রয়েছেন, সেখানে কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁকে বাঁধা দেয় পুলিশ। ফলে হোটেলের বাইরেই ধর্ণায় বসেন দিগ্বিজয় সিং। কিছুক্ষণ পরে তাঁকে আটক করে পুলিশ।
জানা গিয়েছে বুধবার সকালে দিগ্বিজয় সিং বেঙ্গালুরু পৌঁছলে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কর্নাটকের কংগ্রেসের নতুন সভাপতি ডিকে শিবকুমার। বিমানবন্দর থেকে রামাদা হোটেলের দিকে যান কংগ্রেস নেতারা। সেখানেই মধ্যপ্রদেশের বিদ্রোহী বিধায়করা রয়েছেন। হোটেলের বাইরে বসেই দিগ্বিজয় জানান, “আমরা আশা করছি উনাদের ফিরিয়ে আনতে পারব। আমরা খবর পাচ্ছি উনাদের আটকে রাখা হয়েছে। উনাদের পরিবারের কাছ থেকে খবর আসছে। আমি নিজে ৫ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে ও ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটা ঘরের সামনে পুলিশ পাহাড়া দিচ্ছে। তাঁদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বিধানসভার অধিবেশন ২৬ মার্চ অবধি বন্ধ রাখেন স্পিকার। এরপরই রাজ্যপাল চিঠি দিয়ে কমলনাথকে বলেন, মঙ্গলবার আস্থা ভোট করাতেই হবে। এরপর মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ, রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজভবন থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যারা দাবি করছে তাদের গরিষ্ঠতা আছে, তারা আগে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনুক। তারপর বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হবে।” তবে পরে তিনি বলেন, “আমি রাজ্যপালকে জানিয়েছি, সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনে যা করা হবে আমি তাতেই রাজি।”
সোমবার রাজ্যপাল লালজি ট্যান্ডন এক মিনিটের সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন বিধানসভায়। তিনি বলেন, “প্রত্যেককেই সংবিধান মেনে চলতে হবে। বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা করাও সকলের কর্তব্য।” এদিকে মধ্যপ্রদেশে বিরোধী দলনেতা গোপাল ভার্গব বলে বসেন, “রাজ্য সরকার গরিষ্ঠতার প্রমাণ দিচ্ছে না। তারা বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা পিছিয়ে দিচ্ছে। সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। নৈতিক কারণেই কমলনাথের ইস্তফা দেওয়া উচিত।” আস্থাভোট পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়ে বিজেপি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। বুধবার বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে এক বেঞ্চের সামনে মধ্যপ্রদেশের আস্থাভোট নিয়ে আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা।





