স্লিভলেস-শর্ট স্কার্ট পরে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ‘নো এন্ট্রি’, নতুন বছরে জগন্নাথ মন্দিরে চালু হল পোশাকবিধি

প্রত্যেক বছরের মতোই এই বছরই বছরের প্রথম দিনে পুরীর  জগন্নাথ মন্দিরে নেমেছিল ভক্তদের ঢল। এই বছর থেকে জগন্নাথ মন্দিরে চালু করা হয়েছে ড্রেস কোড। পূর্ব প্রকাশিত ঘোষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পোশাক বিধি মেনে চললে তবে ১ জানুয়ারি থেকে মন্দিরে প্রবেশ করে জগন্নাথ দর্শন করতে পারছেন দর্শনার্থীরা।

কোন কোন পোশাকে না মন্দির কর্তৃপক্ষের?

মন্দির কর্তৃপক্ষ তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে আর ছেঁড়া জিন্স, স্লিভলেস জামা, স্কার্ট বা হাফ প্যান্ট পরে প্রবেশ করা যাবে না পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে। ১২ বছরের নীচের শিশুরা হাফ প্যান্ট পরতে পারেন। মহিলারা শাড়ি বা সালোয়ার কামিজ ও পুরুষরা ফুল শার্ট, প্যান্ট বা কুর্তা-পাজামা পরে মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে পুরীর মন্দির কমিটির তরফে।

গত বছর ২০ অক্টোবর মাসেই শ্রীজগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পক্ষ থেকে পোশাক বিধি নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানেই বলা হয়েছিল যে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে এমন কোনও পোশাক পরে জগন্নাথদেবের মন্দিরে প্রবেশ করা যাবে না।

মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, “মন্দিরের পবিত্রতা বজায় রাখা আমাদের কর্তব্য। আজকাল অনেকেই মন্দিরে আসছেন ধর্মীয় ভাবাবেগের কথা না ভেবেই। হাফ প্যান্ট, হাতাকাটা জামা পরে অনেককে মন্দিরে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। যেন তাঁরা সমুদ্রের ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মন্দির দেবস্থান, কোনও বিনোদনের জায়গা নয়”। সেই কারণে বছরের প্রথম দিন থেকেই এই নির্দেশ কড়া হাতে বজায় রাখতে দেখা গেল পুরীর মন্দির কর্তৃপক্ষকে।

বছরের প্রথম দিনে দর্শনার্থীদের সুবিধা ও কোনও রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয় জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। বর্ষবরণের রাতে জগন্নাথ মন্দিরে পুজোর রীতিনীতি সম্পন্ন হয় রাত ১১টা নাগাদ। এরপর ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় মন্দিরের দ্বার।

পুরীর সেন্ট্রাল জোনের আইজি আশিস সিং বলেন, “মধ্যরাত ১টা ৪০ মিনিট থেকে ভক্তদের দর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রাত থেকে লম্বা লাইন পড়েছে শ্রীমন্দিরের সামনে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিশ্রামকক্ষে দাঁড়িয়ে পুজোর জন্য অপেক্ষা করতে পেরেছেন ভক্তরা”।

RELATED Articles