উত্তর-পূর্বের তিনরাজ্যে ধুয়ে-মুছে সাফ তৃণমূল, জয়ের হাসি হাসবে গেরুয়া শিবিরই, বলছে বুথ ফেরত সমীক্ষা

গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি ভোট হয়েছে ত্রিপুরায়। আর গতকাল, সোমবার ভোট ছিল নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়তে। উত্তর-পূর্বের এই তিনরাজ্যে বেশ আগ্রাসী ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূলকে। বাংলার বাইরে জমি শক্ত করার জন্য মরিয়া ঘাসফুল শিবির। শেষ পর্যন্ত বাংলার বাইরে কী সংগঠন মজবুত করতে পারবে তৃণমূল? কী বলছে এই তিনরাজ্যের বুথ ফেরত সমীক্ষা। দেখে নেওয়া যাক-

ত্রিপুরায় ভোট ছিল গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি। এই রাজ্যে মোট আসন ৬০টি। ইন্ডিয়া টুডে ও অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষা বলছে এবারে বিজেপি জোট পেতে পারে ৩৬-৪৫টি আসন। বাম-কংগ্রেস জোট পেতে পারে ৬-১১টি আসন। ত্রিপুরার রাজনীতিতে ধূমকেতুর মতো উত্থান হওয়া তিপ্রামথা ৯-১৬টি আসন পেতে পারে বলে আভাস মিলেছে এই দুই সংস্থার সমীক্ষায়। আর কংগ্রেসের ঝুলিতে কোনও আসনই যাবে না বলে জানা যাচ্ছে এই সমীক্ষায়। অন্যদিকে, অন্যান্যদের ঝুলিতেও রয়েছে শূন্যটি আসনই। এই অন্যান্যদের মধ্যে পড়ছে তৃণমূল।

ত্রিপুরায় জি নিউজের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি জোট পেতে চলেছে ২৯-৩৬টি আসন। বাম-কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ১৩-২১টি আসন। তিপ্রামথা পেতে পারে ১১-১৬টি আসন। অন্যান্যরা পেতে পারে ০-৩টি আসন। এই সমীক্ষা অনুযায়ীও কংগ্রেসের ঝুলি শূন্যই।

জন কি বাত-এর সমীক্ষা বলছে বিজেপি জোট পাবে ২৯-৪০টি আসন। বাম-কংগ্রেসের ঝুলিতে যাবে ৯-১৬টি আসন আর তিপ্রামথা পেতে পারে ১০-১৪টি আসন। বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে মোটামুটি স্পষ্ট যে এবারেও বিজেপি এককভাবে বা বিজেপি জোটই ত্রিপুরায় সরকার গড়তে চলেছে।

নাগাল্যান্ডে ভোট হয়েছে গতকাল, সোমবার। এখানে আসন সংখ্যা ৬০। ইন্ডিয়া টুডে-র সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি জোট এই রাজ্যে পেতে চলেছে ৩৮-৪৮টি আসন। কংগ্রেস পেতে পারে ১-২টি আসন। এনপিএফ পেতে পারে ৩-৮টি আসন ও অন্যান্যদের ঝুলিতে যাবে ৫-১৫টি আসন।

জন কি বাত-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি জোট এই রাজ্যে পাবে ৩৫-৪৫টি আসন। এনপিএফ পেতে পারে ৬-১০টি আসন। আর অন্যান্যদের ঝুলিতে যেতে পারে ৯-১৫টি আসন।এই রাজ্যে অবশ্য তৃণমূল লড়ে নি। তবে এই রাজ্যেও বিজেপি বা বিজেপি জোটই যে সরকার গড়তে চলেছে, তা নিশ্চিত।

অন্যদিকে, মেঘালয়তে ভোট হয়েছে গতকাল, সোমবার। এখানেও আসন সংখ্যা ৬০। জন কি বাতের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি সাতের কমে নেমে যেতে পারে। করনাড সাংমার এনপিপি পেতে পারে ১১-১৬টি আসন। ৯-১৪টি আসন জিততে পারে বাংলার শাসকদল তৃণমূল। ইউডিপি পেতে পারে ১০-১৪টি আসন। কংগ্রেস দখল করতে পারে ৬-১১টি আসন।

অন্যদিকে টাইমস নাও ও ইটিজির সমীক্ষায় আভাস এনপিপি পেতে পারে ১৮-২৬টি আসন। তৃণমূলের ঝুলিতে আসতে পারে ৮-১৪টি আসন। ইউডিপিও ৮-১৪টি আসন জিততে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। বিজেপির কপালে জুটতে পারে ৩-৬টি আসন।

আবার ইন্ডিয়া টুডে ও অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়ার সমীক্ষায় দাবী করা হয়েছে, ৬০ আসনের মেঘালয়ে এনপিপি পেতে পারে ১৮-২৪টি আসন। বিজেপির জুটতে পারে ৪-৮টি আসন। কংগ্রেস ৬-১২টি আসন নিয়ে বিরোধী দল হতে পারে। অন্যান্যরা পেতে পারে ৪-৮টি আসন। বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, মেঘালয়তে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। এখানে ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। জোট বেঁধেই সরকার গঠন করতে হবে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে।

তবে এই রাজ্যে তৃণমূলের পতনের হার লক্ষ্য করা গিয়েছে। কারণ এই রাজ্যে তৃণমূল বিরোধী দল। বর্তমানে ১২জন বিধায়ক রয়েছে এই রাজ্যে তৃণমূলের। কিন্তু এই ভোটের সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল সেভাবে আসন নাও পেতে পারে। ফলে সরকার গঠন তো দূর, নিজেদের বিরোধী দলের তকমাও হয়ত ধরে রাখতে পারবে না তারা।

বলে রাখি, বুথ ফেরত সমীক্ষা কখনওই ধ্রুব সত্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি বিজ্ঞানসম্মত। এই বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে ভোট শতাংশের একটা ধারণা পাওয়া যায় কিন্তু ভোট শতাংশ থেকে আসন সংখ্যা বের করার প্রক্রিয়াটি এখনও অনেক সমীক্ষা সংস্থা একেবারে ত্রুটি মুক্ত করতে পারেনি। তবে এই সমীক্ষা থেকে ভোটের ফলাফলের একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এবার আগামী ২রা মার্চ ভোটগণনা হলেই আসল ফলাফল জানা যাবে।

RELATED Articles